1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পাচার করা অর্থ ফেরাতে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তির খসড়ায় সায় রাজশাহীতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কম্পিউটার-সেলাই মেশিন বিতরণ যুক্তরাষ্ট্রে কেমন আছেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাত্রি হুমায়ুন-মিলিব্যান্ড সাক্ষাৎ: বাণিজ্য বাড়া ও এয়ারবাস কেনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ দক্ষিণের মাছ হলেও এখন উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ কুড়িগ্রামে ফুলে সাজানো রিকশায় চড়িয়ে গ্রাম পুলিশকে বিদায় মেসির ‘একমাত্র’ ভোটে বিস্মিত আলজেরিয়ান তরুণ প্রাক-অর্থায়ন তহবিল: বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএফআইসির চুক্তি বরিশালে ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘বরিশল’ উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়ক অবরোধ

বাংলাদেশে উর্দুভাষী: কতটা মিশতে পারছে মূলস্রোতে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ জুন, ২০১৪
  • ১০৬ Time View

ঢাকার মিরপুরে উর্দুভাষী ও স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রোববার ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পের ভেতরে থাকা লোকজন এবং স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে।image_86502_0

রোববার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে বিহারি নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী বিক্ষোভ করেছেন হতাহতের প্রতিবাদ জানিয়ে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যাম্পে চার দশকের বেশি সময় ধরে বাস করা এসব উর্দুভাষীদের সাথে ও স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যেকার সম্পর্ক কোন পর্যায়ে রয়েছে?

ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার জন্ম খালেদ হোসেনের। জন্মসূত্রেই বাংলাদেশের নাগরিক মি. হোসেন পড়াশোনা শেষে এখন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

তিনি বলছিলেন উর্দুভাষী হিসেবে জেনেভা ক্যাম্পে জন্ম নেয়াই তাকে এই পর্যন্ত আসতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে সেসব প্রশাসনিক জটিলতা।

ক্যাম্পে বা ক্যাম্পের বাইরে বসবাসের সময় স্থানীয় বাঙ্গালীদের সাথে সম্পর্কের তেমন কোন টানাপোড়েনের মধ্যে তিনি পড়েননি।

মি: হোসেন বলেন, “জন্মের পরেই দেখলাম আমি জেনেভা ক্যাম্পে, বাবা-মা আটকে পরা পাকিস্তানি। আমি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলাম, গ্রাজুয়েশন করলাম এখন ল’ প্রাকটিস করছি। অনেক ডিসক্রিমিনেশনের শিকার হতে হয়েছে। তবে কিছু ভালো মানুষ অবশ্যই ছিল যাদের অনেক সাহায্য পেয়েছি।”

ঢাকায় যে কয়টি ক্যাম্প রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মিরপুরের কালসির বিহারি ক্যাম্প। দীর্ঘদিন ধরে এর পাশেই বাস করছেন মেহেরুন্নিসা হক।

তিনি বলছিলেন ১৯৭৩ সালে যখন তারা এখানে থাকা শুরু করেন তখন কিছুটা অস্বস্তি কাজ করলেও সময়ের আবর্তে তাদের সম্পর্ক একে অপরের কাছে খুব ভালো প্রতিবেশী হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।

মিসেস হক বলছিলেন,“১৯৭৩ সালে যখন থাকতে আসি তখন সম্পর্ক খুব ভাল না থাকলেও খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু এখন অনেক ভালো। আমাদের বাজার এক, আমরা একই কলের পানি খায়। কখনো আলাদা কিছু মনে হয়নি।”

বাংলাদেশের এসব উর্দুভাষী যারা বিহারি নামেই বেশি পরিচিত তাদের জন্য সারা দেশে ১১৬টি ক্যাম্প রয়েছে। ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে আনুমানিক ছয় লাখের মতো উর্দুভাষী এসব মানুষ বাস করছেন।

বাংলাদেশে গত চার দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে এসব উর্দুভাষী মানুষ- যাদের কেও কেও নিজেদের নিজেদের আটকে পড়া পাকিস্তানি হিসেবে পরিচয় দেন।

এদের বেশির ভাগেরই জন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। এসব উর্দুভাষী মানুষ বাংলাদেশের মূল সমাজের সাথে তারা কতটা মিশতে পেরেছেন?

উর্দুভাষীদের সংগঠন উর্দু স্পিকিং পিউপিলস ইয়ুথ রিহেবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতি সাদাকাত খান বলছিলেন স্থানীয় বাঙালিদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো।

তবে ১৯৯৫ সালের তাদের ক্যাম্পের জমির ওপর স্থানীয় বাঙালিদের জন্য তৎকালীন সরকারের দেয়া প্লট বরাদ্দের কারণেই তার ভাষায় বহিরাগতদের সাথে তাদের এই সমস্যাগুলোর সূত্রপাত হয়।

মি: খানের বর্ণনায়, “আমাদের বাড়িঘর যেখানে ছিল সেখানে সরকার ক্যাম্প করে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে এই জমির ওপর স্থানীয় বাঙালিদের প্লট অ্যালোটমেন্ট দেয়া হয়। তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন এসে এখানে স্থানীয় মাস্তানদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ অবস্থা দূর করার জন্য সরকারকে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা দূর করতে হবে।”

২০০৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্দুভাষী এ জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করা হয়।

ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে অনেকেই রয়েছেন যারা পড়াশোনা শেষে কর্মজীবন শুরু করেছেন মিশে গেছেন সমাজের মুল স্রোতে।

তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মূলত স্থানীয়দের সাথে তাদের এই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে মনে করেছেন উর্দুভাষী এই জনগোষ্ঠী।– বিবিসি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ