1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

পুঠিয়া রাজবাড়ির রাজকন্যা এখন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৭ Time View

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঙ্গনা রায়ের শিকড় বাংলাদেশের রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়িতে। তার দাদু এই রাজবাড়ির বংশধর। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের কাছে পুঠিয়া রাজবাড়ির গল্প শুনে বড় হয়েছেন তিনি। এবার সেই পূর্বপুরুষের ভিটা দেখতে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছার কথা জানালেন এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পারিবারিক ইতিহাস ও বাংলাদেশে আসার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন অঙ্গনা। তিনি জানান, তার দাদু জগৎ নারায়ণ রায় চৌধুরী ২০১৯ সালে প্রায় ৫০ বছর পর বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশভাগের পর সেটিই ছিল তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। ইতিহাস বলছে, ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে মহারানি হেমন্ত কুমারী দেবী পুঠিয়া রাজবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৫৯ সালে রাজবাড়ি ছেড়ে ভারতে চলে যান বাসিন্দারা। বর্তমানে স্থাপনাগুলো দেখভাল করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। পুঠিয়া রাজবংশের দ্বাদশ বংশধর যতীন্দ্র রায় চৌধুরীর ছেলে জগৎ নারায়ণ রায় চৌধুরী। অঙ্গনা বলেছেন, ‘আমার দাদু পুঠিয়া রাজবাড়ির বংশধর। আমার খুব ইচ্ছে একবার বাংলাদেশের রাজশাহী যাওয়ার। আমি ছোটবেলা থেকে পুঠিয়া রাজবাড়ির বিষয়ে শুনেছি। আমার দাদু ২০১৯ সালে ৫০ বছর পর বাংলাদেশ গিয়েছিলেন। দেশভাগের পর উনি প্রথমবার সেখানে গিয়েছেন। সেখানে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন।’ তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগৎ নারায়ণ রায় চৌধুরীর ছেলে রজত রায় চৌধুরী ও পুত্রবধূ উজ্জয়িনী ঘোষ চৌধুরী ২০১৮ সালের অক্টোবরে রাজশাহীতে এসেছিলেন। এখন তো পুঠিয়া রাজবাড়ি সরকারি সম্পত্তি হয়ে গেছে। সেখানে একটা বই আছে, সেখানে যারা বংশধর তাদের নাম লেখা আছে। আমার দাদুরও নাম লেখা আছে দাদুর বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি তার কাছে বিশেষ আবেগের বলে জানান অভিনেত্রী। সেই সফরের ছবিগুলো দেখার পর নিজের শিকড় সম্পর্কে নতুন করে উপলব্ধি হয়েছে তার। অঙ্গনার ভাষায়, ‘সেই ছবিগুলো যখন আমি দেখি, মুহূর্তটা আমি খুব স্পেশালভাবে দেখি। এর আগে আমি সিরিয়াসভাবে ভাবিনি যে এতটা স্ট্রং রুট আছে আমাদের।’ পুঠিয়া রাজবাড়ির বংশধরদের নাম সংরক্ষিত থাকার বিষয়টিও জানিয়েছেন অঙ্গনা। তিনি বলেছেন, ‘এখন তো পুঠিয়া রাজবাড়ি সরকারি সম্পত্তি হয়ে গেছে। সেখানে একটা বই আছে, সেখানে যারা বংশধর তাদের নাম লেখা আছে। আমার দাদুরও নাম লেখা আছে। এরপর সেখানে আমাদের সবার নাম লিখে এসেছেন। সেই ছবিটাও দেখে আনন্দিত হয়েছি।’ এখনো বাংলাদেশে আসার সুযোগ হয়নি অঙ্গনার। তবে তার ইচ্ছা, দাদুকে সঙ্গে নিয়েই একদিন রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি ঘুরে দেখবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যাওয়ার আমার সৌভাগ্য হয়নি। আমার খুব ইচ্ছে বাংলাদেশে যাওয়ার। আমার দাদুর বয়স এখন ৯২। আমার ইচ্ছে দাদুকে নিয়েই সেখানে যাওয়ার। সাত বছর আগে দাদু যখন সেখানে গিয়েছিলেন, সেই স্মৃতিগুলো আমার কাছে খুব স্পেশাল হিসেবে ধরা দেয়।’ বাংলাদেশের দর্শকদের ভালোবাসার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তার কাজের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ ও সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া মন্তব্য তাকে আনন্দিত করে। অঙ্গনা বলেন, ‘আমি এখন যত কাজ করেছি, বাংলাদেশের মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছি, এত কমেন্ট আসে, সেটা দেখে আমার ভালো লাগে। বলাই হয় আমি পুঠিয়া রাজবাড়ির রাজকন্যা, তো আমি ডেফিনিটলি চাইব সেখানে যাওয়ার।’ ২০০৩ সালে ‘আলো’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় অঙ্গনা রায়ের। অভিনয় করেছেন ‘সেই যে হলুদ পাখি’, ‘পাপ’, ‘তানসেনের তানপুরা’ ও ‘মোহমায়া’র মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত পুঠিয়া রাজবাড়ি বাংলার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী দেবী প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। এর দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী, কারুকাজ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি আকর্ষণীয় একটি দর্শনীয় স্থান। ১৯৫৯ সাল। বদলে যাওয়া সময় তখন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় টিকতে না পেরে জগৎ নারায়ণ রায় চৌধুরীরা দেশ ছেড়ে চলে যান ভারতে। সে যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন বাবা, মা, ভাই ও ভাবি। জগৎ নারায়ণ রায় চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সে সময় এক কাপড়েই ভারতে চলে গিয়েছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ