1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে চলবে হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়: মির্জা ফখরুল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সোলার সেচপাম্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা, উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সোলার সেচপাম্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেশজুড়ে সরকারি উদ্যোগে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ‘সলেমানের সোলার সেচপাম্প’: মির্জা ফখরুল পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি অপসারণে কোনো ঝুঁকি নেই: রেলমন্ত্রী পদ্মা রেল সেতুর মাটি কাটা প্রকল্পের নকশা ও চুক্তিরই অংশ: রেলমন্ত্রী শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে আইন প্রণয়নের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

দাদির নাকফুলে নৌকা পার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ৮৩ Time View

নৌকার মাঝির হাতে দাদির নাকফুল খুলে দিয়ে নদী পার হয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক রহিমুল্লাহ। টাকার অভাবে নদী পার করে দিচ্ছিল না মাঝি। তবে নৌকা পারের বাকি টাকা ছিল না বলে বড় ভাই সাহাবুল্লাহর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ওপারেই রেখে এসেছে রোহিঙ্গা এ পরিবার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রহিমুল্লাহ। নদী তীরে নেমেই পিঠে তুলে নেন শতবর্ষী দাদিকে। কাদা মাটি মাড়িয়ে ডাঙায় অাসতে বেশ হাফিয়ে ওঠেন রহিমুল্লাহ। দাদিকে লুঙ্গিতে বেঁধে পিঠে নিয়ে এভাবেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন রোহিঙ্গা এই যুবক।

jagonews24

অারাকান রাজ্যের রাসিডং উপজেলার জোহারাং গ্রাম থেকে তিন দিন অাগে রওনা দিয়েছে রোহিঙ্গা এই পরিবারটি। বৌদ্ধ মগেরা সব জ্বালিয়ে দিয়েছে। গ্রামের বহু যুবককে হত্যা করেছে বৌদ্ধ অার সেনারা মিলে। ঘর জ্বালানোর অাগে লুট করেছে সব। তরুণীদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। মগদের ছোঁড়া তীরের অাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বড় ভাইয়ের অাট বছরের ছেলের। জীবন বাঁচাতে কয়েকটি গরু সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপারে এসে পৌঁছান মঙ্গলবার সকালে।

jagonews24

পানির দরে গরুগুলো বিক্রি করে নৌকার ভাড়ার ব্যবস্থা করেন এই যুবক। তাতেও ভাড়ার টাকা সংকুলান হয় না তাদের। পরে দাদির নাকফুল খুলে মাঝির হাতে তিলে দিলে নৌকা নদীতে ভাসান। তবে অারও টাকার অভাবে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে সঙ্গে অানতে পারেননি। ওপারে অপেক্ষারত অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রাত পার করবেন সাহাবুল্লাহর স্ত্রী। বাংলাদেশে এসে ভাড়ার টাকার ব্যবস্থা করে অাবার স্ত্রীকে অানতে যাবেন সাহাবুল।

jagonews24

বৌদ্ধদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা রহিমুল বলেন, ঈদের অাগে থেকে পালিয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, রক্ষা পাবো। তা অার হয়নি। সব জ্বালিয়ে দিল। গ্রামের অসংখ্য যুবক হত্যা করা হল। হত্যা করা হয়েছে অামার অাট বছরের ভাতিজাকেও। দেশ ছাড়তে অামাদের বাধ্য করা হয়েছে। বৃদ্ধ দাদিকে তো রেখে অাসতে পারি না। দাদিকে পিঠে করেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দিলাম।

ছেলের মৃত্যুর কথা মনে পড়ায় দুই গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল রহিমুল্লাহ ভাই সাহাবুল্লার। বলেন, ‘কোলের ধনকে এভাবে রেখে অাসতে হবে ভাবিনি। ওকে মাটি চাপাও দিতে পারিনি।’

jagonews24

সীমানার ওপারে রেখে অাসা স্ত্রীর কী হবে জানতে চাইলে বলেন, ‘পরিবারের অন্যদের সঙ্গে অামি না এলে দিশা থাকত না। প্রভুর নামে রেখে এসেছি। টাকা ম্যানেজ করে কাল অাবার ওপারে যাবো স্ত্রীকে অানতে।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ