1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ঢাকায় কাল শুরু সাফ ফুটবল, উত্তাপ কোথায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে : বিশ্বব্যাংক ‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি’ – প্লেনে পাটওয়ারীর সঙ্গে আসিফ মাহমুদ কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা? সাব্বির-আফিফকে নিয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রাথমিক দল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল: বাংলাদেশ ও কোন দলের সম্ভাবনা কতটা ঢাকায় দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিং ফুটবল উৎসবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

দাদির নাকফুলে নৌকা পার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ১০৩ Time View

নৌকার মাঝির হাতে দাদির নাকফুল খুলে দিয়ে নদী পার হয়েছেন রোহিঙ্গা যুবক রহিমুল্লাহ। টাকার অভাবে নদী পার করে দিচ্ছিল না মাঝি। তবে নৌকা পারের বাকি টাকা ছিল না বলে বড় ভাই সাহাবুল্লাহর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ওপারেই রেখে এসেছে রোহিঙ্গা এ পরিবার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রহিমুল্লাহ। নদী তীরে নেমেই পিঠে তুলে নেন শতবর্ষী দাদিকে। কাদা মাটি মাড়িয়ে ডাঙায় অাসতে বেশ হাফিয়ে ওঠেন রহিমুল্লাহ। দাদিকে লুঙ্গিতে বেঁধে পিঠে নিয়ে এভাবেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন রোহিঙ্গা এই যুবক।

jagonews24

অারাকান রাজ্যের রাসিডং উপজেলার জোহারাং গ্রাম থেকে তিন দিন অাগে রওনা দিয়েছে রোহিঙ্গা এই পরিবারটি। বৌদ্ধ মগেরা সব জ্বালিয়ে দিয়েছে। গ্রামের বহু যুবককে হত্যা করেছে বৌদ্ধ অার সেনারা মিলে। ঘর জ্বালানোর অাগে লুট করেছে সব। তরুণীদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। মগদের ছোঁড়া তীরের অাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বড় ভাইয়ের অাট বছরের ছেলের। জীবন বাঁচাতে কয়েকটি গরু সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপারে এসে পৌঁছান মঙ্গলবার সকালে।

jagonews24

পানির দরে গরুগুলো বিক্রি করে নৌকার ভাড়ার ব্যবস্থা করেন এই যুবক। তাতেও ভাড়ার টাকা সংকুলান হয় না তাদের। পরে দাদির নাকফুল খুলে মাঝির হাতে তিলে দিলে নৌকা নদীতে ভাসান। তবে অারও টাকার অভাবে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে সঙ্গে অানতে পারেননি। ওপারে অপেক্ষারত অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রাত পার করবেন সাহাবুল্লাহর স্ত্রী। বাংলাদেশে এসে ভাড়ার টাকার ব্যবস্থা করে অাবার স্ত্রীকে অানতে যাবেন সাহাবুল।

jagonews24

বৌদ্ধদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা রহিমুল বলেন, ঈদের অাগে থেকে পালিয়ে ছিলাম। ভাবছিলাম, রক্ষা পাবো। তা অার হয়নি। সব জ্বালিয়ে দিল। গ্রামের অসংখ্য যুবক হত্যা করা হল। হত্যা করা হয়েছে অামার অাট বছরের ভাতিজাকেও। দেশ ছাড়তে অামাদের বাধ্য করা হয়েছে। বৃদ্ধ দাদিকে তো রেখে অাসতে পারি না। দাদিকে পিঠে করেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দিলাম।

ছেলের মৃত্যুর কথা মনে পড়ায় দুই গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল রহিমুল্লাহ ভাই সাহাবুল্লার। বলেন, ‘কোলের ধনকে এভাবে রেখে অাসতে হবে ভাবিনি। ওকে মাটি চাপাও দিতে পারিনি।’

jagonews24

সীমানার ওপারে রেখে অাসা স্ত্রীর কী হবে জানতে চাইলে বলেন, ‘পরিবারের অন্যদের সঙ্গে অামি না এলে দিশা থাকত না। প্রভুর নামে রেখে এসেছি। টাকা ম্যানেজ করে কাল অাবার ওপারে যাবো স্ত্রীকে অানতে।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ