1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
‘শীর্ষ সন্ত্রাসী তেমন নেই, সহযোগীরা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজতে চাইছে’ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা ইরানের পর আরো একটি দেশ দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ কাল ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের ১৬ মার্কিন ঘাঁটি পতিত আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি কোনো কাজ করবে না : নজরুল ইসলাম যেদিকে তাকাই সেদিকেই অনিয়ম-দুর্নীতি : মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী আলোচিত বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখার ভার সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিলের : আইনমন্ত্রী ‘যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে: ট্রাম্প

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে কেন?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৫
  • ২১৩ Time View

কেউই ভাবেনি এক বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাবে। বিশ্ববাজারে এখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৪০ ডলার। ছয় বছরের মধ্যে এ দর সবচেয়ে কম।fgbhfted
জ্বালানি তেল হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পণ্য। এর সঙ্গে জড়িত বিশ্বের অর্থনীতির ওঠা-নামা। এমনকি রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে তেলের দাম। ফলে এখন তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নানাভাবে এর প্রভাব পড়ছে। বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। অন্তত এক লাখ তেলশ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। কূপ খনন ও উত্তোলনের যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও বিক্রি কমে গেছে।
অর্থনীতিই কারণ: প্রশ্ন হচ্ছে কী এমন ঘটল যে তেলের দাম কমতেই থাকবে। এর কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন অর্থনীতির খুব সাধারণ তত্ত্বের কথা। আর তা হচ্ছে চাহিদা-জোগান তত্ত্ব। এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনেক বেশি। কিন্তু সে তুলনায় চাহিদা কমে গেছে। সে কারণেই দাম কমছে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবর অনুযায়ী, গত ছয় বছরে যুক্তরাষ্ট্র তার তেলের উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে। বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র তেল আমদানি করে। তবে এখন তা কম করছে। এর বড় কারণ হচ্ছে ‘শেল ওয়েল’ বা পাথরের খাঁজে সঞ্চিত তেলের বড় মজুত পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সৌদি আরব, নাইজেরিয়া বা আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো আগে যুক্তরাষ্ট্রে তেল বেশি রপ্তানি করলেও এখন তাদের নজর দিতে হচ্ছে এশিয়ার দিকে। সেখানেও আবার অনেক প্রতিযোগিতা। ফলে বাজার ধরতে দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এ ছাড়া কানাডা, ইরাক, এমনকি রাশিয়াও তেল সরবরাহ বাড়িয়েছে।

এ তো গেল জোগানের দিকটি। এবার দেখা যাক চাহিদা পরিস্থিতি। ইউরোপের অর্থনীতি মন্দায়। চীনের অর্থনীতি গতিমন্দায়। অনেক দেশের গাড়ি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী। এর ওপর চীন আরেক দফা তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে। এতে তেলের দাম সামনে হয়তো আরও কমবে।
ওপেক কী করছে: চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যহীনতা আগেও হয়েছে। প্রতিবারই তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক উৎপাদন কমিয়ে ভারসাম্য ঠিক রেখেছে। কিন্তু এবার আর ওপেকের সেই ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে কথাও কম হচ্ছে না। বিশ্বে এখন যে তেল উৎপাদন হয়, তার মাত্র ৪০ শতাংশ করে ওপেকের দেশগুলো। তা ছাড়া ওপেক এখন চাচ্ছেও না সরবরাহ কমাতে। যদিও ওপেক তেলের যে দর চায়, তার চেয়ে এখনকার দর ৫০ শতাংশ কম। তারপরেও ওপেক ২০১৪ সালের ভিয়েনা বৈঠকে সরবরাহ কমাবে না বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাতে অটল আছে। ইরান, ভেনেজুয়েলা ও আলজেরিয়া সরবরাহ কমাতে চাইলে এতে অনিচ্ছুক ওপেকের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরব। সৌদি আরবের বক্তব্য হচ্ছে সরবরাহ কমালে তারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রতিযোগীদের মুনাফা বাড়বে। সরবরাহ না কমানোর বিষয়ে বেশি অটল ছিলেন সৌদির প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ। তবে বর্তমান বাদশাহ সালমান এই নীতি থেকে সরে আসবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন না। কিন্তু কত দিন কঠোর অবস্থান ধরে রাখবেন, সেটিও অনেকের প্রশ্ন। কারণ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, সৌদি আরব ও উপসাগরের অন্য দেশগুলো কেবল বর্তমান বছরেই আয় হারিয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার।
কার লাভ, কার ক্ষতি: তেলের দাম কমায় উৎপাদনকারী সবগুলো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মধ্যে আছে রাশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, ইকুয়েডর ও ব্রাজিল। এর মধ্যে তেল রপ্তানির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল রাশিয়া। দেশটির রপ্তানির ৭০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। হিসাবটি হচ্ছে ব্যারেলপ্রতি এক ডলার দাম কমলে রাশিয়ার ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার।
তেলের দাম কমায় কিন্তু আবার ইউরোপ ও এশিয়া খুশি। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর চীন, জাপান ও ভারত বেশি লাভবান হয়। এতে দেশগুলো মূল্যস্ফীতি সীমার মধ্যে রাখতে পারছে। বলা হচ্ছে তেলের দাম ১০ শতাংশ কমলে অর্থনীতিতে উৎপাদন বাড়ে দশমিক ১ শতাংশ। আর খুশি সাধারণ ভোক্তারা।
তবে বাংলাদেশ সরকার এতে লাভবান হলেও এর সুবিধা পায়নি সাধারণ মানুষ। কারণ, সরকারই তেল আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে, দামও নির্ধারণ করে দেয়। ফলে সরকারের মুনাফা বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে তেলের দাম কমার কোনো প্রভাব নেই।

আরও পড়ুন..

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ