বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও রবিবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে দলটি। একিসাথে টানা চারদিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান যুক্ত বিবৃতি বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একজন আলেমে দ্বীন, বিশ্ববরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অগণিত মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান। বিগত প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল যাবৎ তিনি দেশে-বিদেশে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের তাফসীর পেশ করে আসছেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তাঁর কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি কুরআনের ময়দানে বিচরণ করেছেন সদা-সর্বদা।
এতে বলা হয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও বায়বীয় অভিযোগে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে।
মাওলানা সাঈদীর মামলার জন্য সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার এ মামলায় তাঁকে ফাঁসানোর জন্য নানান ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। বেলজিয়াম থেকে পাঠানো জনৈক জিয়াউদ্দীনের পাঠানো চার্জ ফ্রেমিং অর্ডারের উপর ভিত্তি করে চার্জ গঠন করা হয়। ধান চোর, কলা চোর, ট্রলার চোর, যৌতুক আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিভিন্নভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে সরকার। ১৬ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির না করে তাদের জবানবন্দীকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার পক্ষের সাক্ষীদের সেইফ হাউসে রেখে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করা হয়।
এতে বলা হয়, আল্লামা সাঈদীর বক্তব্য না শুনেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানী অন্যায়ভাবে সমাপ্ত করা হয়। সরকার ইচ্ছা মাফিক সাক্ষী প্রদান করলেও সাঈদী সাহেবের পক্ষের সাক্ষীর সংখ্যা সীমিত করা হয়। দেলু শিকদার নামক কুখ্যাত রাজাকারের অপকর্মের দায় সাঈদী সাহেবের উপর চাপানো হয়। সাঈদী সাহেবের পক্ষের সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে অপহরণ করে ভারতে পাচার করা হয়।
স্কাইপ কেলেংকারীর পর সংশ্লিষ্ট বিচারক পদত্যাগ করলেও তার রেকর্ড করা জবানবন্দীর উপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনালে রায় প্রদান করা হয়। ১৯৭২ সালে ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলা ও চার্জশীটের সার্টিফাইড কপি আদালতে জমা দেয়ার পরেও তা আমলে নেয়া হয়নি। এভাবে মাওলানা সাঈদীকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়।
মাওলানা সাঈদী সরকারে জুলুমের শিকার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বারবার তিনি এ সরকারের চরম জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও তিনি ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়ে চরম জুলুমের শিকার হলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে ন্যায় বিচার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ রায় বহাল থাকলে কোটি কোটি জনতার প্রাণপ্রিয় এ মানুষটিকে জেলের ভেতরেই ইন্তেকাল করতে হবে। একজন নিরপরাধ মানুষের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই এটাকে মেনে নেয়া যায় না।
তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন দায়ের করবেন। আশা করি তিনি সেখানে ন্যায় বিচার পাবেন এবং আবারও কুরআনের ময়দানে ফিরে আসবেন, ইনশাআল্লাহ।
বিবৃতিতে মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ৪দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচিগুলো হল: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হরতাল, ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে-বিদেশে আল্লামা সাঈদীর জন্য দোয়া অনুষ্ঠান, ২০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার ভোর ৬টা থেকে ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হরতাল।