২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে অত্যন্ত সৃজনশীল ও খোলামেলা বলে দাবি করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলেন, ‘আগে অর্থনীতির যে ক্ষেত্রগুলো অন্ধকারে ছিল এবারের বাজেটে সেগুলো আলোচনার আলোতে এসেছে।’
রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘হাওর অঞ্চলের আলোকে সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি: পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নে লক্ষ্যে প্রচারিত ‘হাওর ক্যাম্পেইন গ্রুপ’ ও অক্সফাম এ সেমিনার আয়োজন করে।
হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি স্থানীয় এনজিওসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান অর্থ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সরকারের নজরে আসায় মঙ্গা এলাকার সমস্যা সমাধান হয়েছে। হাওরের বিষয়টিও সরকারের নজরে এসেছে। হাওর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কাজ চলছে।’
আগামীতেও উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘বর্তমান সরকার কানা-খোঁড়া নয়, সরকার সবার কথা শোনে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে।’
এ সময় উন্নয়ন সংস্থা গ্রো ও অক্সফাম সম্পাদিত ‘ব্রিফিং পেপার’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মেচান করেন প্রতিমন্ত্রী এ এ মান্নান।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপনের ৬ বছর পার হলেও বেশির ভাগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এসময় দেশের সুবিধাবঞ্চিত মৎস্যজীবীদের জীবন মান উন্নয়নে ১৫টি সুপরিশ তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে: জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার গণ্ডিতে সীমিত না রেখে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করা, নীতিমালার অস্পষ্টতা দূর করা, উপজেলা ইজারা কমিটিতে মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফয়সল আহমদ, অক্সফামের প্রচারণা কর্মকর্তা মৌসুমী বিশ্বাস, নদী বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রিভারাইন পিপলের সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকন, সিবিসির নির্বাহী পরিচালক নিলিপ মং।