সিলেট টেস্টে চরম হতাশার এক দিন কাটিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচের চতুর্থ দিন আগের দিনের রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিন শেষে উইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৩৫ রান সংগ্রহ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য এবং লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। তাওহীদ হৃদয়ের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরির পরও সিলেট টেস্টে বর্তমানে বেশ অস্বস্তিকর ও চাপের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার ম্যাচের চতুর্থ দিন সকালের প্রথম সেশন থেকেই বেশ দাপুটে পারফর্ম করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। প্রথম সেশনে বোলাররা দুটি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখালেও, শেষ দুটি সেশনে মাত্র একটি উইকেটের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে এই টেস্টে বাংলাদেশের জয় এখন অনেকটাই দুরূহ ও কঠিন এক চ্যালেন্জে রূপ নিয়েছে।
এর আগে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ দল প্রথম সাফল্য পায় তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। উইন্ডিজের দলীয় ৮৫ রানের মাথায় জশুয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান তিনি। প্রথম উইকেট শিকারের পর মাত্র ১০ রান যোগ হতেই ব্রেন্ডন কিংয়ের আরেকটি উইকেট পাওয়ার সহজ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শর্ট কাভারে সেই সহজ ক্যাচটি তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন তাওহীদ হৃদয়।
অবশ্য ব্রেন্ডন কিংয়ের উইকেট পেতে বাংলাদেশকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। দলীয় ১১৯ রানের মাথায় মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে অধিনায়ক শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কিং। এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ৩৫৬ রান এবং জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করে ৩০ রানের একটি ছোট লিড অর্জন করেছিল।
ম্যাচের দ্বিতীয় সেশনে একটি উইকেটও শিকার করতে পারেনি বাংলাদেশি বোলাররা। পুরো ২৮ ওভার নির্বিঘ্নে ব্যাট করে কাটিয়ে দেন কেভিন উইকহ্যাম এবং কাভেম হজ। নিজেদের অসাধারণ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে হজ তুলে নেন ক্যারিয়ারের চমৎকার একটি সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত খেলার পর অভিষিক্ত উইকহ্যাম দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটির দেখা পান। তবে ম্যাচের তৃতীয় সেশনে তাকে আউট করে ব্রেকথ্রেক আনেন তাইজুল ইসলাম। ৭৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দিন শেষে হজ ১৪০ রানে এবং তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেওয়া আমির জাঙ্গু ২০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।