আন্তর্জাতিক বাজারে শস্য, দুগ্ধজাত পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের মাংসের দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে, গত অক্টোবর মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে সার্বিক বিশ্লেষণ করলে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক এখনো এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ উঁচুতে বহাল রয়েছে বলে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ইউএন-এফএও) পরিচালিত বিশ্ব খাদ্য মূল্যসূচক—যা মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যগুলোর প্রতি মাসের দামের পরিবর্তন অনুসরণ করে—অক্টোবরে গড়ে ১৩৩.৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসের সংশোধিত সূচক ছিল ১৩৫.৬ পয়েন্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের সূচকটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৯ শতাংশ বেশি, কিন্তু এটি ২০২২ সালের মার্চে পৌঁছানো বিশ্ব খাদ্যমূল্যের ঐতিহাসিক চূড়া থেকে ১৬.৪ শতাংশ নিচে রয়েছে।
এফএওর মূল শস্য মূল্যসূচক সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ কমেছে এবং বছরভিত্তিক হিসাবে এটি ১২.৬ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে—যার পেছনে গম ও ভূট্টার আন্তর্জাতিক কোটেশন মূল্য হ্রাস পাওয়া মূল ভূমিকা রেখেছে। মূলত বৈশ্বিক আমদানির চাহিদা ঝিমিয়ে পড়া এবং বিশেষ করে আর্জেন্টিনায় বাম্পার উৎপাদনের ইতিবাচক সম্ভাবনার কারণে গমের বিশ্ববাজার দর নিম্নমুখী হয়েছে।
"কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের রফতানি প্রবাহ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিলের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক খাদ্যমূল্যের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে, যদিও উক্ত অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন লজিস্টিকস জটিলতার কারণে দরপতনের গতি কিছুটা সীমিত ছিল," এফএও তাদের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।
এর পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বর মাসে তিন বছরের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর অক্টোবর মাসে ভূট্টার দামও হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ভূট্টা সংগ্রহ , দক্ষিণ আমেরিকায় উদ্বৃত্ত জোগানের পূর্বাভাস এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সংঘাতের উত্তাপ কমার ফের ইতিবাচক ইঙ্গিত—ভূট্টার দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সামগ্রিক দরপতনের মাঝেও অক্টোবর মাসে বৈশ্বিক ভোজ্যতেল মূল্যসূচক ০.৩ শতাংশের মতো সামান্য বেড়েছে। রেপসিড বা সরিষা বীজজাতীয় তেলের দরপতন ঘটলেও— সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের ঊর্ধ্বমুখী মূল্য সেই ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত রয়েছে। চিনি মূল্যসূচক এক মাসে ৬.৬ শতাংশ বেড়ে টানা চতুর্থ মাসের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে—যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। চিনি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে অতিবৃষ্টির কারণে, আখ মাড়াই ও ফসল কাটার কাজ ব্যাহত হওয়ার ফলেই এটি ঘটেছে। এর ফলে চিনির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে ২৮.৮ শতাংশ চড়া।
ডেইরি বা দুগ্ধজাত পণ্যের সূচক অক্টোবরে ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গুঁড়ো দুধের চড়া চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে মাখন ও পনিরের অতিরিক্ত সরবরাহ ও দুর্বল চাহিদার কারণে এই খাতের সামগ্রিক সূচক নিম্নমুখী হয়েছে।
একই সময়ে বিশ্বব্যাপী মাংসের মূল্যসূচক ১.২ শতাংশ কমেছে। শুকর, ভেড়া ও গরুর মাংসের দাম বৈশ্বিক স্তরে হ্রাস পেলেও এটি এখনো বিগত বছরের একই মেয়াদের সামান্য কিছু ওপরে বহাল রয়েছে।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.