টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখলেন তাওহীদ হৃদয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সাফল্য একমাত্র হৃদয়ের দ্রঞ্চুরি।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে ১৭১ বল মোকাবিলা করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তাওহীদ হৃদয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দিনের প্রথম সেশন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান। শতরানে ব্যাট করছেন তাওহীদ হৃদয়। অন্য প্রান্তে ১ রানে অপরাজিত রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।
দলের কঠিন সময়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে হৃদয়ের এই লড়াকু ইনিংস বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে বড় প্রাপ্তি। তবে হৃদয়ের ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিনেও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে দল।
এর আগে ওয়ারিক্যান অবশ্য নিজের বোলিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসীই ছিলেন। হাসানকে উইকেট কিপারের ক্যাচে পরিণত করলে আম্পায়ার নট আউট বলে মাথা নাড়েন তারপর অধিনায়ক চেজও রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সেই রিভিউ সফল হলে সাজঘরে ফিরতে হয় হাসানকে। ওয়ারিক্যান অফ স্টাম্পের আশপাশে কিছুটা ফ্লাইট দিয়ে বলটি করেছিলেন। পিচে পড়ে সেটি বাইরের দিকে ঘুরে যায়। প্রশ্ন ছিল, বলটি হাসানের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগেছে, নাকি ব্যাটের পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে? রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় স্পর্শ করেছে। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়, বিদায় নিতে হয় হাসানকে।
এর আগে বেশ সাবলীলভাবেই ব্যাটিং করছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তার ইনিংসটি বড় হলো না। ৩০ বলে ১৬ রান করে ফিরতে হলো তাকে। মিরাজকে ফিরিয়ে দারুণ একটি ক্যাচ নেন গ্রিভস। চেজের বলে আগেভাগেই প্যাডেল সুইপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু বলটি মাটিতে রাখতে পারেননি। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিভস আগে থেকেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। দ্রুত পাশের দিকে সরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন তিনি। একই ধরনের ফাঁদে পড়ে উইকেট হারালেন লিটন দাসও। এবারও ধীরগতিতে সামান্য ফুল লেংথে অফ স্টাম্প বরাবর বল করেন ওয়ারিক্যান। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে বলটি তুলে দেন কাভারে দাঁড়িয়ে থাকা কিংয়ের হাতে। মুশফিকুর রহমানের মতো লিটনও পা দিলেন ওয়ারিক্যানের পাতা ফাঁদে। ৮ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। লিটনের বিদায়ে বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়ে। প্রতিপক্ষের চেয়ে তখনো ২১৫ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন হৃদয়
গতকাল দ্বিতীয় দিনে ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ইনজুরির কারণে নিয়মিত ওপেনার সাদমান ইসলাম খেলতে না পারায় ইনিংসের সূচনা করতে নামেন নাঈম হাসান। তবে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। একে একে নাঈম হাসান, তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও তরুণ তাওহীদ হৃদয়। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ।
তবে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর সাজঘরে ফিরতে হয়েছে মুশফিকুর রহিমকে। ওয়্যারিকানের বলে কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৭৬ বল মোকাবিলা করে ৩৪ রান করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তার বিদায়ে হৃদয়ের ওপর বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়েছে।