কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সেনাসদস্য মোহাম্মদ তিতাস শেখের (২৭) মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায় নেওয়া হচ্ছে। আজ শুক্রবার দুপুরে রামু সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানো ব্যবস্থা করা হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। নিহত তিতাস নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে নগরকান্দার বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়ের সঙ্গে তিতাসের বিয়ে হয়। তবে তাদের কোনো সন্তান নেই। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী গ্রামের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মানবপাচারের জন্য অপহরণ করে পাহাড়ের গোপন আস্তানায় আটকে রাখা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করা। আরও পড়ুন বিএনপির রাজনীতিতে চর পড়েছে: আক্তারুজ্জামান ০৬ নভেম্বর ২০২৬ অভিযান চালানোর সময় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা যৌথবাহিনীর ওপর গুলি চালায়। এতে সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সৈনিক তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। তার কাঁধে গুলি লাগে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ তিতাসকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযানে মানবপাচারকারীদের জিম্মি করে রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদও। শুক্রবার সকালেও রঙ্গীখালীর পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ছিল। মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি অবগত করেন, মানবপাচারকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে সৈনিক তিতাস শেখের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে আইএসপিআর। শোকবার্তায় বলা হয়েছে, দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় এ তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সেনাবাহিনী।