তেজনারায়ণ চন্দরপলের প্রতিরোধ ভেঙে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছিলেন শরীফুল ইসলাম। এরপর জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজের জুটিতে আবারও এগোতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুযোগ এসেছিল এই জুটি ভাঙার, কিন্তু সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি মুমিনুল হক। শেষ পর্যন্ত লাঞ্চের ঠিক আগমুহূর্তে গ্রিভসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তি এনে দেন নাঈম হাসান। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে এগিয়ে যাওয়ার কাজটা ঠিকই করেছে ক্যারিবীয়রা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২১৩ রান। দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান করা সফরকারীরা সকালের সেশনে ৭৯ রান যোগ করেছে ২ উইকেট হারিয়ে। প্রথম ইনিংসে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৫৯ রানে পিছিয়ে তারা। ৩০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ।
আগের দিনের ৪৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা তেজনারায়ণ চন্দরপল শুরু থেকেই ছিলেন ধীরস্থির। অন্য প্রান্তে জাস্টিন গ্রিভসও সামলেছেন বাংলাদেশের বোলারদের। দিনের ষষ্ঠ ওভারেই ১৬৪ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন চন্দরপল। দুই ব্যাটসম্যানের প্রতিরোধে ক্রমেই বড় হচ্ছিল জুটি।
তবে চন্দরপলকে খুব বেশি দূর যেতে দেননি শরীফুল ইসলাম। ইনিংসের ৫৯তম ওভারে তার বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন ক্যারিবীয় ওপেনার। ১৮২ বলে ৫৬ রান করে ফেরেন তিনি। ভাঙে পঞ্চম উইকেটে ৬৫ রানের জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ১৬২ রান।
চন্দরপল ফিরলেও বাংলাদেশের বোলারদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি গ্রিভস ও নতুন ব্যাটসম্যান চেজ। দুজন মিলে আবারও ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন। ৬৭ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৮৯ রান। এরপরও নির্বিঘ্নে এগোচ্ছিল তাদের জুটি।
এর মধ্যে চেজকে ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। নাঈমের করা ৭৩তম ওভারের চতুর্থ বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। কিন্তু প্রথমে বাঁ দিকে এগিয়ে যাওয়া মুমিনুল পরে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলটি তালুবন্দী করতে পারেননি।
সেই আক্ষেপ অবশ্য কিছুটা হলেও ঘুচিয়েছেন নাঈম নিজেই। লাঞ্চের আগে শেষ ওভারের চতুর্থ বলে তার ভেতরে ঢোকা নিচু বাউন্সের ডেলিভারি বুঝতে পারেননি গ্রিভস। ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় বল আঘাত করে সামনের প্যাডে। আম্পায়ার এলবিডাব্লিউর সিদ্ধান্ত দিলে রিভিউ না নিয়েই ফিরে যান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
তাতে ৫১ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি ভাঙে। বাংলাদেশও দিনের প্রথম সেশনে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায়। তবে বড় লিড নেওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে পরের সেশনে দ্রুত বাকি চার উইকেট তুলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ স্বাগতিকদের সামনে।