1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্কালোনিকে লম্বা সময় রাখতে নতুন প্রস্তাব আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তিন বছর পর ফিলিস্তিনে ফিরল ফুটবল, মাঠে স্বপ্ন বাঁচানোর লড়াই মক্কা লক্ষ্য করে হামলা, হুতিদের ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ বললেন সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করল এডিবি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা স্নাতক পাসে ব্যাংক এশিয়ায় চাকরি, থাকছে না বয়সসীমা এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ সেরা অভিনেতা কার্তিক-মামুট্টি, সেরা অভিনেত্রী ইয়ামি ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহরানা নির্ধারণে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জ তদন্তেই প্রমাণ হবে : মীর শাহে আলম

এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ নিয়োগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ Time View

গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেশিরভাগই সাইফুল আলমের (এস আলম) জন্মস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগ পাওয়া

কর্মীদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জনকে প্রথমে এন্ট্রি পদে রাখা হয়। বাকি ৩,৯৯১

জনকে সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

তবে ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানায় পরিবর্তনের পর ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে ৮,৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে ওই সময় ব্যাংকটি তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’ বলে যুক্ত করা হয়।

তবে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সাধারণত নিয়োগ বিধিমালায় এ ধরনের ধারা রাখা হয়, যাতে জরুরি মুহূর্তে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে লেটারাল এন্ট্রির এক-দুটি পদ বা কারিগরি পদে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু ওই ধারা নতুন করে সংযোজন করে ব্যাংকের প্রবেশনারি এন্ট্রি পদে ছয় হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়, যা খুবই অস্বাভাবিক।

নতুন যুক্ত করা ওই ধারায় ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কথা বলা হলেও’ ব্যাংকটির ওই সময়কার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কখনো বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল না। বরং ওই সময় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই যে পরিমাণ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ছিল ৮,০৯৯ জন। এর মধ্যে ৫,১৪৮ জনই এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার। মূলত নিয়োগের বিজ্ঞাপন না থাকার কারণেই চট্টগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই জেলা থেকে উচ্চহারে নিয়োগের কারণে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেধাবী ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়। জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসে বিভিন্ন ধরনের বক্স রাখা হতো। ওই সব বক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’, ‘ডিপ্লোমা’ ইত্যাদি লেখা থাকত। পরে পছন্দের প্রার্থীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। পরে প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে।

প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগে নিয়ম লঙ্ঘন

ইসলামী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে শুধু ২৪তম ব্যাচেই কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ প্রার্থীর তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে এসব প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। ওই পরীক্ষায় ৭৬৩ জন অংশ নেন। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু এই নম্বর পান মাত্র ৩৬ জন। পরে পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এতে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন। এর বাইরে লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এসব প্রার্থীর সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন চাকরিতে যোগ দেন।

এছাড়া নিয়ম ভেঙে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২,২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারকে (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও। এসব পদে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যথাক্রমে ২,৮২৮ জন ও ৫০১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া লেটারাল এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের লক্ষ্য করা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৬৪ জনকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় ২০১৭-২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের সবাই সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু ভাইভা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানান। দুই প্রার্থী কোনো ভাইভাও দেননি বলে জানানো হয়। তাদের কেউ কেউ সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশে (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি) এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে সিভি জমা দেন। সেখানে ভাইভা দেন এবং যোগদানপত্রও সংগ্রহ করেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যোগদানের আগে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত থাকলেও মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি ডিএমডি হন।

এছাড়া আরেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন ২০ বছরের বিপরীতে মাত্র ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি হন। একই সঙ্গে ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর নীতিগত পরিবর্তনগুলো শুধু একটি গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক বাড়তি সুবিধা দিতে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগের জন্য লিখিত ও ভাইভা নেওয়া এবং যোগ্যতার নম্বর হিসেবে ৫০ শতাংশ পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি জড়িত নয়। এটি ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনায় চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। নিরীক্ষায় এস আলমের সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের চিত্র উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে এই পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করে।

ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট ৫,৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল আছেন।

অন্যদিকে ৪,৯৭২ জন ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এদের মধ্যে কিছু কর্মী পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। পাশাপাশি তারা কর্মবিরতি পালন, সড়কে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ আনা হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে। বোর্ডের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ৪,৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘তাদের নিয়োগের বৈধতা-অবৈধতার বিষয় বিবেচনা করে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। সে সময় যে প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে তাদের পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাপার এবং প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ