ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ব্যালন ডি’অরের ভোটগ্রহণ শেষ হতে দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। এরই মধ্যে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রার্থী জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
দলীয় খেলা ফুটবলে নিজেদের জন্য এ ধরনের প্রচারণা অতি সাম্প্রতিক প্রবণতা। কয়েক বছর আগেও এই খেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কার ঘোষণার সময় না আসা পর্যন্ত তেমন আলোচনায় থাকত না। কিন্তু এখন নতুন ইউরোপীয় মৌসুম যখন মাত্র গতি পেতে শুরু করেছে, সেই সময়ে ফুটবল নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ব্যালন ডি’অর।
এ বছর ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে ২৬ অক্টোবর। তবে চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বর, যখন পুরস্কারের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল ওসমানে দেম্বেলের উত্তরসূরি হিসেবে ৩০ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানটি হবে লন্ডনে। এবার ৩০ জন মনোনীত খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র পাঁচজন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেন। এই পুরস্কারের সঙ্গে সরাসরি কোনো অর্থমূল্য নেই। তবে এটি খেলোয়াড় ও তাদের দলের জন্য বাড়তি আয় ও মর্যাদার মূল্য তৈরি করেছে।
অনেক তারকার চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জেতার সঙ্গে সম্পর্কিত বোনাস রয়েছে। একই সঙ্গে এই পুরস্কার খেলোয়াড়ের সামগ্রিক বিপণনমূল্য এবং তার ক্লাবের বাজারমূল্যও বাড়িয়ে দেয়।
সর্বকালের সর্বাধিক ব্যালন ডি’অর জয়ী দুই খেলোয়াড় লিওনেল মেসি আটবার এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পাঁচবার এই পুরস্কার জিতেছেন। ফোর্বসের হিসেবে, দুজনেরই বছরে স্পনসরশিপ থেকে আয় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি। কোনো ক্লাবের একজন খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর জিতলে সেই ক্লাব আরও বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রতিটি থেকে একজন করে প্রতিনিধি- মোট প্রায় ১০০ জন আমন্ত্রিত সাংবাদিক ভোট দেবেন।
এবার স্পষ্ট কোনো ফেভারিট না থাকায় খেলোয়াড় ও তাদের জনসংযোগ সংস্থাগুলো প্রচারণা আরও জোরদার করছে। ভোট আদায়ের জন্য নিজেদের অর্জনগুলোও নির্দ্বিধায় সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
মুভিস্টার প্লাসকে ২০২৬ সালে বিশ্বকাপ ও লা লিগা জয়ী লামিন ইয়ামাল বলেন, “আমার কাছে এমবাপ্পে এবং আমি, আমরাই বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়।” ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, “সত্যি বলতে, বিশ্বের সেরা হিসেবে হয়তো আমরা দুজনই আছি। আর এ বছর আমি যে সাফল্য অর্জন করেছি, তার কারণে আমি মনে করি এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আমি।” ফরাসি তারকার বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর কয়েক দিন আগে এমবাপ্পে পুরস্কারটির ব্যক্তিগত চরিত্রের ওপর জোর দিয়েছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ বা ফ্রান্সের হয়ে কোনো শিরোপা না জেতা সত্ত্বেও ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছে। এমবাপ্পে বিশ্বকাপে ১০ গোল করে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে গেছেন, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।
গত মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে বলেন, “বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া, এই খেলাটির ইতিহাসের সব কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে টুর্নামেন্ট রয়েছে সেখানে রেকর্ড গড়াড় এটি সত্যিই বিশেষ কিছু, একটি বৈশ্বিক আয়োজন। আমি কাকে ভোট দেব? নিজেকেই।”
তার কোচ হোসে মরিনহোও এই যুক্তির পক্ষে সায় দিতে দ্বিধা করেননি। তিনি বলেন, “আমরা জানি, এই গ্রীষ্মে কে ইতিহাস গড়েছে। আর সে পিএসজি বা স্প্যানিশ জাতীয় দলের কেউ নয়।” ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছিল। ভ্রমণের ঠিক আগে তারা জানতে পারে, তাদের সাতজন মনোনীত খেলোয়াড়ের কেউই পুরস্কার জেতেননি।
এ বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার পর পিএসজির রেকর্ড ১০ জন খেলোয়াড় মনোনয়ন পেয়েছেন। এই সংখ্যা এবং দলটির সমষ্টিগত দলীয় চেতনার সুনামও তাদের বিপক্ষে যেতে পারে। পিএসজি কোনো একজন খেলোয়াড়কে বেছে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তবে তারা বলছে, বিজয়ী তাদের দলেরই কোনো খেলোয়াড় হওয়া উচিত।
দেম্বেলে ফ্রান্স ফুটবলকে বলেন, তিনি ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করবেন না। “সেরা খেলোয়াড় জিতুক; যাই হোক, ভোট তো আমরা দিচ্ছি না,” তিনি বলেন। “আমি কখনো নিজের প্রচার করি না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।”
এদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন, যিনি ৭৩ গোল করে বায়ার্ন মিউনিখকে জার্মান ঘরোয়া ডাবল জেতাতে এবং ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তৃতীয় হতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি নীরবই রয়েছেন। তবে বায়ার্ন তাদের অধিনায়কের পক্ষে সরব হয়েছে। ক্লাবটি একটি ভিডিও তৈরি করেছে, যেখানে সতীর্থরা বলেছেন, কেনেরই ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত।
তালিকায় থাকা কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ বলেন, “তার এটা জেতা উচিত, শতভাগ- এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”