1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন

বড় টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি, খুলনা কি পারবে?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ Time View

বিপিএল না থাকায় চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি কিংবা নতুন কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রাথমিকভাবে খুলনা ও বরিশালকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। দুই ভেন্যু পরিদর্শনের পর এরই মধ্যে প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে বোর্ড। এখন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে কোন ভেন্যুগুলোতে খেলা আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হলেও ভেন্যুটিকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ রয়েছে। ফ্লাডলাইট, জায়ান্ট স্ক্রিন, সাইড স্ক্রিন, মিডিয়া প্যাভিলিয়ন, গ্যালারি, সাংবাদিকদের বসার জায়গা, ডাইনিং ও প্রেস কনফারেন্স রুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

এনসিএল টি-টোয়েন্টির জন্য অবশ্য আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ব্যবস্থা অপরিহার্য নয়। স্টেডিয়াম-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অনলাইন সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব। প্রয়োজনে টুর্নামেন্টের জন্য ঢাকাকেন্দ্রিক কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

সূত্রটির ভাষায়, ‘এনসিএল আমরা চালাচ্ছি। এনসিএলের জন্য হয়তো ঢাকা থেকে কিছু ব্যবস্থা করা হবে। তবে চার দিনের খেলা আর টি-টোয়েন্টি খেলার মধ্যে পার্থক্য আছে। এখন সংস্কার কাজ চলায় স্টেডিয়ামের অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন না করলে খেলা চালানো যায় না।’

খুলনার উন্নয়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নেওয়া বড় প্রকল্পটিও এগিয়েছে। বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ৫৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পটির টেন্ডার হয়ে গেছে এবং অনুমোদনও মিলেছে। খুলনায় শিগগিরই কাজ শুরুর আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এনএসসি যে প্রকল্প নিয়েছে ওটা টেন্ডার হয়ে গেছে। ৫৫০ কোটি টাকার উপরে। ওটা পাস হয়ে গেছে। খুলনায় ইনশাআল্লাহ কাজ শুরু হবে।’

বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগলেও আসন্ন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খুলনাকে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী বিসিবির এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, যাবে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করতেছি। আমরা তো অলরেডি রাজশাহী ও সিলেটে করছি। ইনশাআল্লাহ খুলনায়ও হবে।’

তবে কোন কোন ভেন্যুতে ম্যাচ হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া ও রাজশাহী এই চার ভেন্যুকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড।

আলমগীর বলেন, ‘না, এটা আলোচনায় আসবে কোন ভেন্যু কোথায় কী আছে না আছে। এখন সবকিছু দেখে এখানে চারটা ভেন্যুকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল, খুলনা, বগুড়া, রাজশাহী। এখন বাদ পড়া না, এখানে যদি খেলার উপযোগী না হয় তাহলে আয়োজন করা যাবে না।’

ভেন্যুর মান নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখানে খেলা আয়োজন করতে গেলে দর্শকদের বিষয়টি দেখতে হবে, বসার ব্যবস্থা, ড্রেসিংরুম ও সাংবাদিকদের বসার জায়গা থাকতে হবে। এগুলো যদি মানসম্মত না হয়, তাহলে যেসব ভেন্যু মানসম্মত হবে, সেখানেই খেলা আয়োজন করা হবে। এখন এই চারটি ভেন্যুর পরিদর্শন প্রতিবেদন দেখে বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এখনো কোনো ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।’

খুলনার অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির পক্ষ থেকেও এনএসসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলমগীর, ‘আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব বিষয় নিয়ে চিঠি দেওয়া এবং কথা বলার মাধ্যমে যোগাযোগ করে আসছি। মূলত এই কাজগুলো এনএসসিকেই করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু বলা বা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, আমরা সেটাই করছি।’

দেশের ভেন্যুগুলোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। আলমগীর বলেন, ‘ভেন্যু না থাকলে তো আমরাও বিপদে পড়ছি। আমরা এই বিভিন্ন এনসিএল করা বা এসব ইভেন্ট করার জন্য তো মাঠ সব ধ্বংস হয়ে গেছে। খুলনা মাঠ শেষ করে দিছে, বগুড়া মাঠ শেষ করে দিছে। এখন আমরা ভেন্যু কোথায়? বরিশাল এখনো রেডি হয় নাই। কোথায় ভেন্যু বলেন?’

তবে নতুন করে ভেন্যু তৈরির চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সংস্কারের মাধ্যমে মানসম্মত করে তোলার দিকেই জোর দিচ্ছে বিসিবি। আলমগীরের ভাষায়, ‘তিন জায়গায় আটকে আছে, ভেন্যুগুলো ছড়াচ্ছে না। আমাদের তো ভেন্যু আছে, সমস্যা তো আমাদের ভেন্যু নাই তা না, ভেন্যু আছে কিন্তু সেগুলো সংস্কার হলেই হয়ে গেল। ভেন্যু থাকলেও তো হবে না, ভেন্যু তো ফোর স্টার আছে, ফাইভ স্টার আছে। ওই মানটা তো থাকতে হবে।’

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে ভেন্যুগুলোর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো তো দিনের পর দিন অবহেলা বা অযত্নের কারণে ভেন্যুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো বেসিক কাজ না করলে এগুলো তো আসলে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ বা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না।’

বড় পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি দর্শকদের মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। সে ক্ষেত্রে ভেন্যুর সুযোগ-সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমরা যে আয়োজনে বা যে আঙ্গিকে ইভেন্টগুলো করতে চাচ্ছি ওগুলোর জন্য তো ভালো ভেন্যু লাগবে। আমরা আবার দর্শক আনার কথা চিন্তা করতেছি। দর্শক আনতে গেলে ভালো সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট লাগবে, ফ্যাসিলিটিজ লাগবে। সবকিছু মিলাতে কষ্ট হচ্ছে।’

ডিসেম্বরে বড় পরিসরে টি-টোয়েন্টি আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে তাই সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোকে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কাজই এখন বিসিবির অগ্রাধিকার।

২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রবল কালবৈশাখী আঘাত হানে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। ঝড়ের তাণ্ডবে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ভবনের প্রেসিডেন্ট বক্স ও বেশ কয়েকটি করপোরেট বক্সের সামনের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে থাই অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমের কঙ্কাল। বিধ্বস্ত হয় গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনের সাইট স্ক্রিন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অপর প্রান্তের প্রেসবক্সও।

২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর একই বছর বাংলাদেশ জাতীয় দল এখানে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলে। শুধু ওয়ানডে নয়, বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে, প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে।

দেশের সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর খুলনায় প্রথমবার সাদা পোশাকের ক্রিকেট গড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলায় এই মাঠে এখন পর্যন্ত ৩টি টেস্ট, ৪টি ওয়ানডে ও ৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলে এখানে। আর সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ জয় ২০১৬ সালে, বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ