1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট বিপর্যয়, বাতিল ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট দাম কমে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা পিএসজিতেই ব্যালন ডি’অর দেখছেন দেম্বেলে, বললেন শীর্ষ তিনের নামও হালান্ডের জোড়া গোলে দারুণ শুরু ম্যানসিটির রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চাইলেন হুমায়ুন কবির ভোলাকে মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করতে ৪-৫ বছরে সড়ক-সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা : নৌপরিবহন মন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতা চলছে : রিজভী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরো তীব্র হয়েছে বলেএক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র জানিয়েছেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কনস্যুলেটটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম নিয়ে কাজ করে। তবে ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় তেল আবিবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করার পর ইসরায়েল এই পাল্টা পদক্ষেপ ঘোষণা করে। মিলিব্যান্ডের অভিযোগ, এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের নীরব সমর্থন রয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’র দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের ব্রিটিশ জনগণের বিরুদ্ধে কোনো বিরোধ নেই; তবে বর্তমান ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

যেসব ব্রিটিশ এমপির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে–
ইসরায়েল বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন–সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন, ইউর পার্টির এমপি জারা সুলতানা, লেবার এমপি ডায়ান অ্যাবট, নাজ শাহ, জন ম্যাকডোনেল ও রিচার্ড বার্গন এবং গ্রিন পার্টির এমপি হান্নাহ স্পেন্সার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি ও এলি চাউনস।

এ ছাড়া পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন গাজা সমন্বয় মিশন থেকেও যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যসহ ১২ দেশের নিষেধাজ্ঞা
অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্স ও কানাডাসহ আরো ১১টি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ এবং ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ অবশ্য ব্রিটিশ এমপিদের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান নয়; বরং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

পশ্চিম তীরে বসতি নিয়ে বিরোধ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের কট্টর ডানপন্থী কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যেই দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করে বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী পাল্টা পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দক্ষিণ আটলান্টিকে অবস্থিত ব্রিটিশ ভূখণ্ড ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞাকে ‘ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ব্যবস্থা বা প্রতিশোধের মুখে পড়তে পারে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থানে থেকে বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে যুক্তরাষ্ট্র যাবে না। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরকে অস্থিতিশীল করতে পারে—এমন পদক্ষেপও ওয়াশিংটন দেখতে চায় না।

যুক্তরাজ্যের নীতিতে পরিবর্তন
ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের পরপর কনজারভেটিভ ও লেবার সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে সতর্ক করে আসছে। এর আগে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ও পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের অভিযোগে কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও অবৈধ বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল ব্রিটেন।

তবে সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড আরো কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য এখন শুধু ইসরায়েলি বসতিগুলো নয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলকেও অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে।

ব্রিটেনের এই অবস্থান লেবার দলের অনেক ভোটার ও আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে পারে। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরো জোরালো সমর্থনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

তবে, বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরের দখল নিয়ে দুই দেশের অবস্থান যত কঠোর হচ্ছে, ততই ইসরায়েল-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ