প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য সরকার আগামী ১০ বছর কী কী করবে-সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।’
আজ বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যতটুকু আমার ধারণা আছে, দ্রুতই এই সংসদের সামনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন সংসদের সামনে, দেশের সামনে-আগামী ১০ বছর কীভাবে আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সাজানোর চেষ্টা করছি। যাতে করে আমরা ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার টার্গেট করেছি সেটা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হই।’
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই রাজনীতি করি এবং আমরা রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য। মাননীয় সংসদ সদস্য যে কনসার্নটি এক্সপ্রেস করেছেন, তার প্রেক্ষিতে বলবো-অবশ্যই আমরা দেশের জ্বালানি সমস্যাটি সমাধান করতে চাইছি। আমাদের দেশে ফুলবাড়িয়াতে যে কয়লা খনি রয়েছে, সেই কয়লা খনি পৃথিবীর যে সকল সবচেয়ে ভালো কয়লা খনি আছে তার মধ্যে একটি। কাজেই আমরা এই কয়লাটিকে উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা যেরকম সাশ্রয় করবে একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কয়লাটি উত্তোলন করতে গেলে ওপেন পিট যদি করতে হয় স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু বসতবাড়ি, কৃষি জমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য-অবশ্যই সবচেয়ে আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সেই মানুষগুলোকে আগে সেটেলমেন্ট করা যায়। তাদের আয় রোজগার যাতে বন্ধ না হয় বরং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে সেই প্রকল্প থেকেও যাতে তারা কোনো না কোনোভাবে বেনিফিট পেতে পারে সেই সকল ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেই এবং অবশ্যই পরিবেশের যে বিষয়টি আছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আধা ঘণ্টা ছিল নির্ধারিত। প্রশ্নোকাল পর্ব ছিল। এই পর্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লিখিত ৮টি প্রশ্ন ছিল। আধা ঘণ্টা সময়ে চারটি লিখিত প্রশ্ন এবং ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।