পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে রোববার কারাবন্দি পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়কের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লিখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে তাদের দ্বিতীয় চিঠি এটি।
ইমরান খানের চিকিৎসার বিষয়ে গত ১৮ অগাস্ট পাকিস্তান সরকারকে একটি নির্দেশ দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।
তাতে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।
কিন্তু পাকিস্তান সরকার চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠায় পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) পাঠায়।
এতে তীব্র বিরোধিতা আসে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পক্ষ থেকে। তারা শনিবার সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগও জানায়। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসার দাবি আসে গোল্ডস্মিথের কাছ থেকেও।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “পাকিস্তানকে অবশ্যই তাদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
“ইমরান খানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে; পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে হবে; সেই সঙ্গে তার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি সরাসরি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে?”
জেমিমার সঙ্গে ১৯৯৫ সালে ইমরানের বিয়ে হয়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। সুলায়মান ইসা এবং কাসিম নামে তাদের দুই ছেলে রয়েছে।
ইমরানের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম রেহাম খান। তিনি ব্রিটিশ-পাকিস্তানি সাংবাদিক। ২০১৫ সালে ইমরান খানের সঙ্গে মাত্র ১০ মাসের বৈবাহিক সম্পর্কের পর বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১৮ সালে বুশরা বিবিকে বিয়ে করেন ইমরান।
পাকিস্তানে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) একটি পরোয়ানা ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্স।