যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বেথেসডায় অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি মানসিক (কগনিটিভ) পরীক্ষাতেও শতভাগ নম্বর পেয়েছেন।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রতি ছয় মাস অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং এবার নিজ উদ্যোগে আরও একটি কগনিটিভ টেস্ট দিতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি মাত্রই ওয়াল্টার রিডে একটি নিখুঁত শারীরিক পরীক্ষা শেষ করেছি। আমি প্রতি ছয় মাসে এটি করাই। আমি আরও একটি কগনিটিভ টেস্ট দেওয়ার অনুরোধ করেছি।
’
তিনি আরও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি তিনবার এই পরীক্ষা দিয়েছি এবং প্রতিবারই সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছি।’
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যের পর তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ভুল করে ইরানকে ‘ইসলামিক স্টেট অব জাপান’ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘ভ্লাদিমির পুতিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, হামলার পর ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট থেকে বোঝা যায়, তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। যদিও ওই সফরের সুনির্দিষ্ট সময় তিনি জানাননি।
হোয়াইট হাউসের আগের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন
গত মে মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২৬ মে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’ বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট (এমওসিএ) পরীক্ষায় ট্রাম্প ৩০-এর মধ্যে পূর্ণ ৩০ নম্বর পান এবং তার স্নায়বিক পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
যদিও ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকেরা এই পরীক্ষায় যুক্ত ছিলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই।’