কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকেই ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় সম্পর্কে একধরনের তিক্ততা কাজ করছে। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সেই ফ্রান্সেরই মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো, আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন আর্জেন্টিনার অফিশিয়ালরা। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে ফুটবল মহলে বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচ রেফারি কে হলেন তা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক মেজাজে দেশম বলেন, মাঠের পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, তাদের সেটি মোকাবিলা করতে হবে। রেফারিদের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং মাঠে তাদের আসল প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারি নন। অবশ্য বরাবরের মতোই সংবাদ সম্মেলনে খুব একটা কূটনৈতিক আচরণ করেননি ফরাসি কোচ। উল্টো গত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিসরের খেলায় ফরাসি রেফারির সমালোচনা করায় উত্তর আফ্রিকার সংবাদমাধ্যমকে কিছুটা খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি।
রেফারি বিতর্ক নিয়ে জলঘোলা হলেও ফরাসি শিবিরের ব্যাকআপ গোলরক্ষক রবিন রিসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই উত্তেজনাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে একধরনের তিক্ততা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে রেফারিরা যদি এই পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে থাকেন, তবে তা তাদের যোগ্যতার কারণেই হয়েছে।
এদিকে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফরাসি ফুটবলারদের দারুণ সংযমের প্রশংসা করা হচ্ছে। সেই ম্যাচের পর মাঠের বাইরের বিতর্কও পিছু ছাড়েনি ফ্রান্সের। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী মন্তব্য করার পর ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন প্যারাগুয়ের এক নারী সিনেটর। ফিফা এবং প্যারাগুয়ে সরকার ইতিমধ্যেই সেই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ফরাসি আইনজীবীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ মরক্কোকে নিয়ে বেশ সতর্ক দেশম। তিনি মনে করেন, মরক্কো অত্যন্ত মানসম্পন্ন একটি দল এবং আসরের যত ওপরের দিকে যাওয়া যাবে, লড়াই তত কঠিন হবে। চলতি বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব ছাড়বেন দেশম, তাই ম্যাচটি তার বিদায়ী ম্যাচও হতে পারে। তবে নিজের বিদায় নিয়ে না ভেবে ম্যাচ জয়েই এখন তার পুরো মনোযোগ।
অন্যদিকে, মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি নিজেদের অর্জন নিয়ে এখনই সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকতে রাজি নন। তিনি বেশ স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই শেষ কথা নয়, তাদের একমাত্র লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপ জয় করা। ২০২২ সালের সেমিফাইনালের স্মৃতি আওড়ানোর চেয়ে দুই দলের বর্তমান শক্তির ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন ওয়াহবি। তার মতে, গত চার বছরে দুই দলই অনেক বদলে গেছে এবং আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামবে। দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্লান্তি থাকলেও সেটিকে ভাগ্যের লিখন হিসেবে মেনে নিয়ে ফরাসি বধের ছক কষছে মরক্কো।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান