হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে একাধিক বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। ঠিক তার পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আইআরআইবি নিউজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কেশম দ্বীপে ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এছাড়া সিরিক শহরে ৭টি এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর আব্বাসে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে।
এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামানোর জন্য যে সমঝোতা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা বারবার ভেঙেছে। এর পাশাপাশি লেবাননে চলমান আগ্রাসন ও অন্যান্য হুমকির কথাও উল্লেখ করেছে ইরান।
আইআরআইবি নিউজের টেলিগ্রাম পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান এর গুরুতর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করছে। নিজেদের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান ‘চূড়ান্ত’ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই ইরানের তেলের ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ছাড় বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই আমেরিকার এই পদক্ষেপ।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (UKMTO) জানিয়েছে, রাতে একটি ট্যাংকারে একটি ‘অজানা বস্তু’ আঘাত হানে এবং আগুন ধরে যায়। পরে আরও দুটি জাহাজে হামলা হয়, যার মধ্যে অন্তত একটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।
এই তিনটি জাহাজেই ওমানের কাছাকাছি এলাকায় হামলা হয়। ওমান তাদের উপকূল ঘেঁষে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের একটি নিরাপদ পথ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান এর তীব্র বিরোধিতা করে। কারণ ইরান চায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব জাহাজের ওপর ফি বা মাশুল বসাতে।