1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

মুক্তবাণিজ্যে বাংলাদেশ-চীন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৮ Time View

বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে চীন। তবে এ সুবিধা পেয়েও দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বাড়ানো যায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে; বাংলাদেশের বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এ বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এত গুরুত্ব পাচ্ছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (এফটিএ) বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে চীন শতভাগ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পর এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।

সে কারণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানান, এফটিএ চুক্তি করতে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ‘ভৌত বা প্রত্যক্ষ আলোচনা’ শুরুর বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সমঝোতা স্মারক : চীনে কৃষিপণ্য বিশেষ করে আম ও কাঁঠাল রপ্তানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন করেছে। এ সফরে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় প্রোটোকল চূড়ান্ত ও কার্যকর হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে চীনের বিশাল বাজারে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষর।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব বিষয় আলোচনায় থাকছে : প্রধানমন্ত্রীর সফরে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতে চীনের বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোংলায় দ্বিতীয় আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ জোরদার করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে সহায়তা হিসেবে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু সংস্কার ও নতুন নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হতে পারে। বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এউও)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। এ ছাড়া ব্রিকস ও আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।

বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চীন আমাদের শতভাগ শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে যে সুযোগটি দিয়েছে তা কাজে লাগানো যায়নি। এখন সময় তো কাজে লাগানোর। আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্রান্ড হিসেবে চীনে পরিচিত হতে চাই।

সে লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কিছু সুনির্র্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিসিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি আউটলেট স্থাপন, যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হবে; টেকনোলজি ট্রান্সফার : চীনা প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বাড়াতে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন; এবং বাংলাদেশে একটি ব্যাংক স্থাপন, যার মাধ্যমে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলসি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ