একেই বলে মাস্টারক্লাস, একেই বলে দুর্দান্ত-দারুণ। এমন সুন্দর শুরু করা যায়, সেটা কোনো দিন ভেবেছিলেন কি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিও। তিনি ভেবেছেন কিনা জানি না তবে তার নামের সাথে যার নামের শুরুটার মিল আছে কিছুটা, সেই লিওনেল মেসি দেখালেন পায়ের জাদুতে কি সুন্দর হয়ে উঠতে পারে ফুটবলের মোনালিসা।
মেসি নিজে হ্যাট্রিক করে দলকে জেতালেন দারুণ নৈপুণ্যে। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে মেসিকে তুলে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে যা করার করে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৭৬তম মিনিটে নিজের হ্যাট্রিক পূরণ করেন লিওনেল মেসি, দল এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। এর আগে ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই ম্যাচেই বিশ্বকাপে মেসি ১৬তম গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ১৬ গোল করা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই নিজের প্রথম গোল পান মেসি। দি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে করলেন অসাধারণ এক গোল। বিশ্বকাপে মেসির করা ১৪তম গোলটি নিয়েই যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধের পুরোটা জুড়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে শুরু হয় উল্লাস, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্যাপন থেমে যায়। এরপর বাতিল হয় আলজেরিয়ার একটি গোলও।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন মেসি। এর আগে এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছেন শুধু পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের সাবেক ফরোয়ার্ড বাদের আল-মুতওয়া।
তবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ২০০ তম ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় মেসিই প্রথম! এটি মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ছেলেদের বিশ্বকাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই কিংবদন্তি।