1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

ট্রাম্প-মোজতবা বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ, যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ১৬ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠককে নিজের জন্য ‘সম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে সাক্ষাতের যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি।

শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‌‌‘এমন কোনো বৈঠক হবে না।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় আগ্রাসন চালালে ওয়াশিংটন এক অন্ধকার ও অন্তহীন সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে। কারণ মার্কিন প্রশাসন ভালো করেই জানে, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার খরচ অনেক কম।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে বারবার যে হুমকি দিচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক করে রেজায়ি বলেন, যুদ্ধ ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান এই সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পুরো অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০টি সফল পাল্টা আঘাত হানে তেহরান। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।

চলমান এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করে খামেনির এই উপদেষ্টা বলেন, আলোচনার বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তবে ট্রাম্পের অস্পষ্ট কথাবার্তা ইরানের ক্ষেত্রে কাজ করবে না। দুই দেশের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাস দূর করতে ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং স্পষ্ট কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প ইরানের জবাবের অপেক্ষায় আছেন—এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেজায়ি বলেন, ইরান তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির স্পষ্ট দাবি জানালেও মার্কিনিরা অস্পষ্ট জবাব দিচ্ছে। মূলত এই সম্পদ মুক্তিই হবে আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতার ন্যূনতম পরীক্ষা।

এ ছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তেহরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ও এনপিটি মেনেই কাজ করছে। কিন্তু ট্রাম্প যেহেতু ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিল করেছিলেন, তাই তার সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে ইরানের আস্থা নেই এবং বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হবে না।

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে রেজায়ি জানান, এই জলপথ বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ হলেও সেখানে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি বা সামরিক মোতায়েন করা হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের অংশ হওয়ায় সেখানে পরিবেশ ও ট্রানজিট ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তারা কেবল কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন। প্রতিবেশী কিছু দেশ শত্রুদের জন্য আকাশসীমা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিলেও ইরান কেবল মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটিতেই পাল্টা আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সংঘাত প্রমাণ করেছে যে প্রচলিত যুদ্ধের যুগ শেষ এবং এখন সৃজনশীল উপায়ে পরিচালিত অসম যুদ্ধই (অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার) বেশি কার্যকর।

ইরানের সামরিক শক্তি কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্ব যাতে ইরানের আসল শক্তি দেখতে পারে, সেজন্য তারা মূলত মার্কিন স্থল অভিযানের অপেক্ষায় ছিলেন। কারণ ইরানের স্থল বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী।

সূত্র : প্রেস টিভি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ