সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রয়টার্সের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে সাময়িক বন্ধের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ) আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডাব্লিউএএম জানিয়েছে, জিসিএএ বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমাজুড়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জিসিএএ আরো জানায়, ‘বিমান চলাচলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।’
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবহন ও তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। একটি ড্রোন হামলার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন লাগলে, সোমবার ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
ড্রোন হামলায় এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম তেল সংরক্ষণাগার, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দরেও আগুন লেগে যায়।সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে শহরটির মিডিয়া অফিস জানিয়েছে।
ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করার পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক হামলা হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব ও বিঘ্ন ঘটেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়।
সোমবার বিবিসি গ্লোবাল নিউজ পডকাস্টে বিবিসি সংবাদদাতা আজাদেহ মোশিরি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করে, তাদেরকে অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইরান হয়তো মনে করতে পারে, এই ধরণের চাপের কারণেই এখানকার নেতারা যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো এখানকার কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ হতে অনেক সময় লেগেছে এবং এটি একাধিক আঘাত পেয়েছে, তাই মানুষ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে চিন্তিত বলে জানিয়েছেন মোশিরি।
সূত্র : বিবিসি