জাতীয় সংসদ ভবনে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এবারের গণতান্ত্রিক যাত্রায় জাতীয় সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে অভিজ্ঞ বিএনপি। আর প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল এনসিপি।
দেশে বহু বছর কার্যকর সংসদের অভাব মানুষ হাড়ে হাড়ে অনুভব করেছে। একতরফা সরকার, গৃহপালিত বিরোধী দল ও আংশিক নির্বাচনের কারণে জাতীয় সংসদ প্রায় অকার্যকর ছিল। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে এসেছে সংসদে।
এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সংসদে সরকারি দল, আর বিরোধী দলে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। সবার আশা, সংসদ সদস্যরা প্রাণবন্ত সংসদ উপহার দেবেন। জনপ্রত্যাশা পূরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে।
প্রথম অধিবেশন কীভাবে শুরু হবে এবং দিনের কার্যসূচি কী থাকছে, তা চলুন জেনে নিই-
প্রথম অধিবেশনে জুলাই আন্দোলনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কারণে ২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেইটে গুলিবিদ্ধ শহীদ গোলাম নাফিজের রিক্সাচালকসহ চার শহীদ পরিবারের সদস্যদের অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রীতি অনুযায়ী পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। স্পিকার না থাকায় সরকারি দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সভাপতিত্বে বসিয়ে শুরু হবে সংসদের কার্যক্রম।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে মোট সাতটি বিষয় রয়েছে। প্রথমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিবেশন পরিচালনা করবেন নতুন স্পিকার। এরপর সংসদীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেয়া হবে। এছাড়া প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ২ অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করবেন। সংসদ এগুলোর অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িতদের ফৌজদারি দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কিছু অর্ডিন্যান্স হুবহু অনুমোদন করা হবে বলে জানা গেছে।
পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।
সবশেষ মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এরপর তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। এভাবেই প্রথম দিনের কার্যসূচি শেষ হবে। প্রথম অধিবেশন চলবে প্রায় এক মাস।
তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। সংসদে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায় উল্লেখ করেন নেতারা বলেন, বাধ্য না হলে কোনো বিষয় আদালত পর্যন্ত নেয়া হবে না।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই। ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াত। সবকিছুতে বিরোধিতা নয় আবার না বুঝে সমর্থনও নয়।