রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই প্রশ্ন তুলেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এই ছুটির চিঠি জারি করা হবে কবে?
তবে নির্দেশনার কপি পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিঠি জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হাইকোর্টের এ নির্দেশনা মেনে রমজানে স্কুল বন্ধ থাকবে নাকি নির্দেশনার বিপক্ষে আপিল করা হবে, তা নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টি তারা অবগত।
তবে নির্দেশনার বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আগামীকাল সোমবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর নিজেদের অবস্থান জানাবেন বলে জানা গেছে।
রবিবার দুপুরে বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে—এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
নোটিশে আরো বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারো কাম্য নয়।
নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।