1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো মেসেজ ফাঁস করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫০ Time View

ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক অবস্থান ইউরোপজুড়ে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করেছে। কূটনীতির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, এ ইস্যুতে বাধা দেওয়ায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ব্যক্তিগত বার্তায় তাকে বোঝানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সেসব বার্তার বেশ কয়েকটি নিজেই প্রকাশ করে দেন ট্রাম্প—যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ম্যাক্রোঁর বার্তা

১৯ জানুয়ারি নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প প্রকাশ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত মেসেজের ছবি। সেখানে ম্যাক্রোঁ লেখেন,

‘আমার প্রিয় বন্ধু (ট্রাম্প)
আমরা সিরিয়া নিয়ে সঠিক পথে আছি
আমরা ইরান নিয়ে অসাধারণ কিছু করতে পারি
কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কি করছেন
চলুন ভালো কিছু গড়ার চেষ্টা করি-

১) ডাভোসের অর্থনৈতিক সম্মেলন শেষে আমি প্যারিসে বৃহস্পতিবার একটি জি-৭ বৈঠক আয়োজন করতে পারি। আমি সেখানে ইউক্রেনীয়, ড্যানিস, সিরীয় এবং রুশদের সেখানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারি।

২) বৃহস্পতিবার ডাভোস থেকে ফিরে যাওয়ার আগে চলুন আমরা একসঙ্গে প্যারিসে ডিনার করি।’

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে এই মেসেজ ফাঁস হওয়ায় ম্যাক্রোঁ বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। কারণ, এতে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে তার ব্যক্তিগত সংশয় প্রকাশ হয়ে পড়েছে—যা প্রকাশ্যে তিনি বলেননি।

ন্যাটোপ্রধানের বার্তা

পরদিন, ২০ জানুয়ারি, ট্রাম্প প্রকাশ করেন ন্যাটো-র মহাসচিব মার্ক রুট্টে-এর পাঠানো আরেকটি ব্যক্তিগত বার্তা। রুট্টে সেখানে সিরিয়া, গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে “সমাধানের পথ” খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানান।

সাবেক ন্যাটো মুখপাত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, রুট্টের বার্তাটি তার প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও, এমন ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করা স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতির বাইরে।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে—উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিতে গোপনীয়তা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। আগে যেখানে ব্যক্তিগত বার্তা ছিল নিছক আড়ালের আলাপ, এখন সেগুলোই সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে ‘মেগাফোন কূটনীতি’র রূপ নিচ্ছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এতে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, আর সংকটকালে গোপন ও দ্রুত সমাধানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু শুধু ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনই নয়, বরং বিশ্ব কূটনীতির ধরন বদলে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ