জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরু হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার মাঝেও সুপ্রিম কোর্টের অটল অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরু হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার মাঝেও সুপ্রিম কোর্টের অটল অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরাইস। তিনি বলসোনারোর বিরুদ্ধে এই গৃহবন্দির আদেশ জারি করেন। তার অভিযোগ, বলসোনারো আদালতের পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা মানেননি এবং ট্রাম্পকে মামলায় হস্তক্ষেপ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
বলেনসারো বর্তমানে বিচারাধীন একটি মামলায় অভিযুক্ত।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই গৃহবন্দি আদেশের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিচারপতি মোরাইস ব্রাজিলিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করছেন এবং গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা প্রদানকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনবে বলেও জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, বলসোনারো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কেবলমাত্র তার আইনজীবী ও আদালতের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না।
বলসোনারোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ বলসোনারোর বাসভবনে গিয়ে তাকে গৃহবন্দি করেন এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করেন। বলসোনারোর আইনজীবীরা আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বলসোনারো কোনো আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেননি।
গত মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলসোনারো বিচারপতি মোরাইসকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যা দেন এবং তার বিরুদ্ধে জারিকৃত আদেশগুলোকে ‘কাপুরুষতার’ উদাহরণ বলেন।
গত রবিবার রিও ডি জেনেইরোতে তার সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ছিল গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বলসোনারো ভিডিও কলের মাধ্যমে তার ছেলে সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনোর মাধ্যমে বিক্ষোভে অংশ নেন, যা আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের আরেকটি চেষ্টার প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকেই।
সোমবার বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও সিএনএন ব্রাজিলকে বলেন, ‘মোরাইস এই আদেশ দিয়ে মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিচ্ছেন। আশা করি সুপ্রিম কোর্ট তার এই অস্থিরতা বন্ধ করবে।’
বিচারপতি মোরাইসের এই আদেশ এবং চলমান মামলাটি বলসোনারোর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন-অস্বীকারকারী আন্দোলনের তদন্তের অংশ। যা শুরু হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্রাসিলিয়ায় দাঙ্গার মাধ্যমে— যাকে অনেকেই ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে ট্রাম্প-সমর্থকদের হামলার সঙ্গে তুলনা করছেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলাগুলো বেশির ভাগই দীর্ঘসূত্রতায় পড়লেও, ব্রাজিলে আদালত বলসোনারোর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে একটি নির্বাচনী আদালত তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করেছে।
এদিকে বলসোনারোর আরেক ছেলে কংগ্রেসম্যান এডুয়ার্দো বলসোনারো বিচার শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ে। তার মতে, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পকে ব্রাজিলের ওপর নতুন শুল্ক আরোপে প্রভাবিত করেছে।
সোমবার গৃহবন্দির পর এক বিবৃতিতে তিনি বিচারপতি মোরাইসকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন মানসিক রোগী’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্পও বলসোনারোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে এক চিঠিতে লিখেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত এই অবিচারপূর্ণ ব্যবস্থার চিত্র দেখে আমি হতবাক। এই বিচার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত!’
সূত্র : রয়টার্স