1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

দেশে প্রতিবছর ক্যানসারে ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৪৫ Time View

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে ক্যানসার রোগীর তুলনায় চিকিৎসা সেবা এখনো অপ্রতুল। দেশের প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে; এর মধ্যে ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে ৮ বিভাগে আটটি ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসা এখনো অপ্রতুল। দেশের প্রত্যেক বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ মৃত্যুবরণ করছে। ভেজাল খাবার, স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবন ব্যবস্থা, মাদক ও ধূমপানের কারণে ক্যানসার আক্রান্তের হার বাড়ছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ক্যানসারে আক্রান্ত ২০ লাখ রোগী রয়েছে। তার বিপরীতে চিকিৎসা অনেক অপ্রতুল। দেশে এই চিকিৎসার জন্য সারা দেশে মাত্র ৫০০টি শয্যা রয়েছে, যা কয়েক হাজার প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ১০ লাখ রোগীর ক্যানসারের জন্য রেডিওথেরাপি প্রয়োজন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ১৬০ রেডিওথেরাপি মেশিন প্রয়োজন। তবে আমাদের দেশে হাতে গোনা ২০ থেকে ২৫টি রেডিওথেরাপি মেশিন রয়েছে।

দেশে কিডনি সংক্রান্ত রোগের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, কিডনি রোগে আমাদের দেশে ২ কোটির অধিক মানুষ আক্রান্ত থাকেন। বছরে মারা যায় ২০ হাজারের বেশি লোক। ৩০ হাজারের মতো মানুষের ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে দুঃখের বিষয় সরকারি-বেসরকারি মিলে ২ হাজারের বেশি মানুষকে ডায়ালাইসিস দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকেই। বিশেষ করে দারিদ্র শ্রেণি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এক বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক লাখের অধিক মানুষ মারা যায়। দেশে এক কোটি লোকের বেশি কোনো না কোনোভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত রয়েছেন। বেসরকারি-সরকারিভাবে হৃদরোগের চিকিৎসা কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

দেশের আট বিভাগে যে আটটি ক্যানসার ইনস্টিটিউট হচ্ছে, এর মাধ্যমে শুধু চিকিৎসা সেবার মান উন্নত হবে না, অনেক মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা কমে যাবে। হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সব জেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। জেলায় জেলায় ডায়ালাইসিস স্থাপন করাও সম্ভব হয়েছে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এবং করোনারোধী টিকা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এক নম্বর স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর অনেক দেশ এখনও ১০ শতাংশের ওপরে ভ্যাকসিন দিতে পারিনি। বাংলাদেশ প্রথম ডোজ ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪০ শতাংশ মানুষকে দিতে সক্ষম হয়েছে। দেশের প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হয়েছে। সকল জনগোষ্ঠীর টিকা নিশ্চিতে ৩১ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ফের বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শনাক্ত আবার বেড়ে চলেছে। বাড়তে বাড়তে সংক্রমণ সংখ্যা ১১ শতে পৌঁছেছে, যা আশঙ্কাজনক। এটি নিয়ন্ত্রণে যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ