1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল, নেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৪০ Time View

ঈদের আগে কর্মদিবস শেষ করে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। তাতে টার্মিনালসহ পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়েছে। মূলত আরামদায়ক ভ্রমণ, ঝক্কি না থাকা ও তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় বাহন হিসেবে লঞ্চের দিকে আগ্রহ বেশি থাকে লোকজনের।
এ অবস্থায় লঞ্চগুলোও সুযোগ বুঝে বাড়তি যাত্রীবোঝাই করে সময়ের আগেই ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ছাড়ায় টার্মিনালে তিল ধারনের জায়গা নেই। সব জায়গাতেই মানুষের ভিড়। তবে সরকারি নির্দেশনা মেনে মাস্ক ছাড়া কাউকে টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, বেশিরভাগ লঞ্চেই যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা দেখা যায়নি। মাস্ক পরতে দেখা যায়নি অনেক যাত্রীকে। এছাড়া লঞ্চের ডেকে গাদাগাদি করে বসতে দেখা গেছে। যেন স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না লঞ্চ যাত্রায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, করোনা সংক্রমণরোধে সদরঘাট টার্মিনালের প্রবেশপথে ছয়টি জীবাণুনাশক টানেল থাকলেও সচল আছে একটি। তিন–চারটি লঞ্চে যাত্রীদের হাত স্যানিটাইজের ব্যবস্থা দেখা গেলেও বেশিরভাগ লঞ্চেই তা দেখা যায়নি। ভোলা, হুলারহাট, হাতিয়া, পটুয়াখালী, বেতাগী, দেওয়ানবাড়ি ও চরফ্যাশনগামী লঞ্চের ডেকে যাত্রীরা গাদাগাদি করে শুয়ে-বসে আছেন। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে ছিলা না মাস্ক।
ডেকে গাদাগাদি করে বসে থাকতে দেখা যায় বেতুয়া-চরফ্যাশনগামী ফারহান-৫ লঞ্চে। গাদাগাদি করে কেন বসেছেন জানতে চাইলে রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে আসা মুদি দোকানি জাফর করিম (৫১) জাগো নিউজকে বলেন, লঞ্চ ছাড়বে ৬টায়। কিন্তু লঞ্চ ছাড়ার চার ঘণ্টা আগে এসেও ডেকে জায়গা পাইনি। বাড়ি তো যেতে হবে। বাধ্য হয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ডেকের একপাশে অবস্থান নিয়েছি।
ফারহান-৫ এর কর্মচারী জসিম মিয়া বলেন, যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসতে বললেও তারা শোনেন না। ঘেঁষাঘেঁষি করে বসতে বার বার বারণ করা হলেও কোনো কথাই তোয়াক্কা করেন না যাত্রীরা। তারা না শুনলে আমাদের কী করার।
ডেকে গাদাগাদি করে বসার দৃশ্য দেখা যায় ভোলাগামী গ্লোরী লঞ্চেও। গাদাগাদি করে বসে রয়েছেন বাড্ডা থেকে আসা সুমা বেগম (৩০)। তার কোলে তিন বছরের কন্যাশিশু। এভাবে কেন গাদাগাদি করে বসছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোলায় যাব পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। লঞ্চ ছাড়বে সাড়ে ৫টায়। স্বামীসহ দুপুর ১টায় লঞ্চঘাটে এসেছি। কোথাও জায়গা না পেয়ে এখানে বসেছি।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, এ বছর ঈদ উদযাপনে সদরঘাট হয়ে ঘরে ফিরবেন প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। এজন্য ৪৩টি রুটে যাত্রী পরিবহন করছে প্রায় ২০০টি লঞ্চ। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সময়ের আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি লঞ্চ। ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ছেড়ে গেছে ২৫টি লঞ্চ। অপেক্ষায় আছে আরও ৪০টি।
সদরঘাটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌ-পুলিশের একাধিক দল নদীতে ও টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করছে। রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা। মাঝ নদী থেকে যাত্রীরা যেন লঞ্চে উঠতে না পারে সেজন্য নৌপুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে লঞ্চের কেবিনের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। অগ্রদূত লঞ্চের যাত্রী মোমিন বলেন, ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে ডাবল কেবিন ভাড়া ২ হাজার টাকা। আমি সাড়ে ৩ হাজার টাকায় কেবিনের টিকিট সংগ্রহ করেছি। ডেকের ভাড়া ২৫০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা। সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সুন্দরবন লঞ্চের মালিক অসিম রায় বলেন, গত এক মাস তেলের খরচও তুলতে পারিনি। আজ থেকে কিছুটা চাপ বেড়েছে। অন্যান্য সময়ে ঈদে প্রতি ট্রিপে তৃতীয় শ্রেণিতে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার যাত্রী বহন করা হতো। সেখানে এখন প্রতি ট্রিপে সামাজিক দূরত্ব মেনে ৭০০ যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। কারো কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লঞ্চে যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করছে কি না, তা মনিটরিংয়ে বিআইডব্লিউটিএ-কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ