1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

লাঙ্গলকোট উপজেলার কারণে ঝুলে আছে ৩০০ আসনের সীমানা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ৪১ Time View

কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলার করণে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের সীমানা গেজেট ঝুলে রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমান সংসদীয় আসনের সীমানা আইন দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশের ২৯৯টি আসনের সীমানা প্রস্তুত করেছে ইসি। কিন্তু নাঙ্গলকোট উপজেলার কারণে ৩০০ আসনের গেজেট প্রকাশ করতে পারছেনা সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে কুমিল্লা-১০ আসনটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা ও নাঙ্গলকোট নিয়ে গঠিত। কিন্তু আদালতের রায় আছে নাঙ্গলকোট উপজেলাকে আলাদা একটি আসন করা অথবা অন্য কোন আসনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে নাঙ্গলকোট উপজেলাকে একটি আলাদা আসন করতে গেলে সংসদীয় আসন হবে ৩০১টি। এটি করা সম্ভব হবে না ইসির। আবার অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত করতে গেলে পাশের ফেনী জেলার আসনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এটিও ইসির জন্য বিব্রতকর হবে।

সংসদীয় আসনের সীমনা নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানার সকল কাজ শেষ করেছি। নাঙ্গলকোট উপজেলা জন্য এখন আদলতের দিকে চেয়ে আছি। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। আমাদের আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি এ বিষয়টি নিয়ে শুনানি রয়েছে। সেদিন হয়ত আদালত আমাদের কোন নির্দেশনা দিতে পারেন। আদালতের নির্দেশনার পর কমিশনাররা বসে দ্রুত কিছু একটা করবে।

সংসদ নির্বাচন নিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময়তো একটা সরকার থাকে। সেই সরকারের দায়িত্বে থাকা লোকগুলো চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। সরকার প্রধান নিরপেক্ষ নির্বাচন চাইলেও সরকারের লোগগুলোর সহযোগিতা ছাড়া ইসির পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকার যদি না চায়, সরকারের ব্যক্তি যদি না চায় তাহলে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব?

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যস্ত সীমানার চূড়ান্ত গেজেট গত ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করার কথা ছিল নির্বাচন কমিশনের। এলক্ষ্যে অক্টোবরে ৩০০ আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে খসড়া তালিকা প্রণয়ন, নভেম্বরে খসড়া তালিকা প্রকাশ করে দাবি-আপত্তি-সুপারিশ আহ্বান ও নভেম্বর-ডিসেম্বরে আপত্তির বিষয়ে অঞ্চলভিত্তিক শুনানি শেষ করে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা ছিল ইসির। কিন্তু কোন কিছুই সঠিক সময়ে করতে পারেনি ইসি।

ইসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই-অগাস্টে সীমানা পুননির্ধারণ করে আগের নীতিমালা পর্যারলোচনা করে একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তুত করার কথা ছিল। সেই সঙ্গে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণও করার কথা ছিল ইসির।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্মসচিব পর্যাইয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “এ দুটি কাজের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। সেটাও গত নভেম্বরে এসে। একটা খসড়া নীতিমালা করা হয়েছে, জিআইএস সংশ্লিষ্টদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ আর এগোয়নি। এ অবস্থায় ইসি বলছে নতুন সীমানা আইন দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের গেজেট করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান আইন দিয়ে এখন পর্যন্ত ২৯৯ আসনের সীমা প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি আসনের সিদ্ধন্ত আসলে বর্তমান আইন দিয়ে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি। নতুন যে সীমানা আইন করা হচ্ছে সেটি পরবর্তী কোন নির্বাচনে ব্যবহার করা হতে পারে।

ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপি নতুন আইন করে ২০০১ সালে সংসদীয় আসনের যে সীমানা ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে দাবি জানিয়েছিল। কারণ ২০০৮ সালে অধিকাংশ আসন পরিবর্তন করে ইসি। বিএনপির অভিযোগ, ২০০৮ সালে তাদের আসনগুলোকে ভেঙ্গে দলকে বিপদে ফেলানো হয়েছে। করণ যে এলাকায় বিএনপির দুটি আসনে ভাল সমর্থক ছিল সেখানে ১টি করা হয়েছে। ফলে দলীয় একটি আসন কমে গেছে। অন্যদিকে ইসির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ চেয়েছে বর্তমান আইন দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন। অথাৎ ছিটমহল গুলোকে যুক্ত করে ২০১৩ সালের সীমানা দিয়ে নির্বাচন করতে।

ইসির তথ্যমতে, এর আগে ২০০১ সালেও ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। ১৯৮৪, ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। এক-এগারো পুনর্গঠিত ড. শামসুল হুদার কমিশন সারাদেশের পার্বত্য ৩টি জেলা বাদে ২৯৭ আসনেই পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে ১৩৩টিতে পরিবর্তন আনা হয় বড় পরিসরে। এই ব্যাপক সীমানায় ভাংচুর ও তছনছ করার মাধ্যমে ঢাকায় আসন বাড়ে ৮টি, কমে জেলাতে আসন সংখ্যা। সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে একটি করে আসন কমে। ২০০৮ সীমানা বহাল রেখে ২০১৩ সালে অল্প কিছু আসনে পরিবর্তন এনে দশম সংসদ নির্বাচন দেয় ইসি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ