খাগড়াছড়ির সাজেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সাজেকের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।
আগামী ডিসেম্বরে কমিটির সদস্যরা তিন পার্বত্য জেলা সফর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা, নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।
সাজেকের সমস্যা নিয়ে কমিটির সুপারিশের বিষয়ে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, তারা যেন ওখানে কার্যক্রম চালায় এবং সমাধানের লক্ষ্যে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ওদের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির কিছু ক্ষতিপূরণ শ্রমিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করে।’
এদিকে সংসদীয় কমিটি আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন পার্বত্য জেলা সফর করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। এ বিষয়ে কমিটির আরও এক সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে বাঙালি ও আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, হেডম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই কথা হবে। কোনো পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়া বা কাউকে বাদ দেওয়ার চিন্তা আমাদের নেই।’
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাগত শরণার্থী ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত অ-উপজাতিদের মধ্যে রেশন কার্ড বিতরণে অনিয়ম দূর করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে।
মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ এবং এসব পদ পূরণে মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে কমিটি।
বিগত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তরগুলোতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ ও এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে কমিটি।
সাজেক ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আগামী বৈঠকে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পে কর্মরত পাড়াকর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের কমানো সম্মানী ভাতা সম্মানজনক হারে বাড়ানোর সুপারিশ করে কমিটি।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেটের বিভাজন ও সুষম বণ্টন, খাদ্যশস্য বরাদ্দে অনিয়ম, ব্যয় পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে কমিটি। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, মোস্তফা কামাল পাশা, দীপেন দেওয়ান, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাছুম মোস্তফা।