1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সামিরা খান মাহি হলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬, মুকুট পরালেন তানজিয়া মিথিলা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীর সব সড়কজুড়ে মিছিল, জনসমুদ্র নয়াপল্টন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা মোটরস-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে র‍্যালি রাজধানীতে ২৬ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো’ ঢাকায় এক রাতে পাঁচ স্থানে ৮ ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে সুলতান-দুলু-মাজেদ নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট পুনরুদ্ধারের দাবি বিজেপি এমপির, নতুন বিতর্ক দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট কাল শুরু

বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২.৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে: স্পিকার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ার আলোচনার মধ্যে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি-রপ্তানির তথ্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ও 'গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদার' হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।"

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ত্রিংশ ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর আওতায় বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের কথা জানানো হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তিতে (এআরটি) সই করে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল (তুলা ও কৃত্রিম তন্তু) আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না বলে শর্ত যুক্ত করা হয়।

বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করে।

চুক্তির ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বাতিল হলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের কোনো উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।

এআরটি চুক্তির আগে ২০২৪ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট প্রায় ১১.৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য হয়।

এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এআরটি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার ইংগিত মিলেছে চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) তথ্যে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে।

এই হিসাবে তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি বেড়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।

উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, সরকার এ জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে।

" আমার নির্বাচনি এলাকা ভোলার একটি দ্বীপ, যেখানে বিশাল গ্যাসের মজুদ রয়েছে—৭ টিসিএফ-এরও বেশি প্রমাণিত গ্যাস মজুদ রয়েছে। আমরা এটি অনুভব করি যে উপকূলীয় এলাকায়, বঙ্গোপসাগরে তেলের মজুদ থাকতে পারে।

“আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার মানসম্পন্ন তেল ও গ্যাস পেয়েছে। আমি নিশ্চিত যে উপযুক্ত প্রয়াস এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হলে বাংলাদেশও একদিন তেল-সমৃদ্ধ, গ্যাস-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে এবং ততদিনে আমাদের সব দুর্ভোগ কেটে যাবে।"

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু অনুষ্ঠানে বলেন বলেন, "বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের জন্য মৌলিকভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সম্পর্ক দিয়ে আর কাজ হবে না।

"এমনকি প্রতিবেশীদের সাথেও সুসম্পর্ক বলতে বোঝায় মানুষে মানুষে সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক—উভয়টিকেই।"

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মিন্টু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের এক নম্বর বাণিজ্য অংশীদার এবং এটি শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নয়।

"আমাদের সরকার এখন এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে যেন আমেরিকান কোম্পানি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে—কেবল বিনিয়োগ করতেই নয়, বরং উৎপাদনে আসতেও। আমি চাই আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুক; কারণ আয়তনের দিক থেকে এটি ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট নয়।”

তিনি বলেন, "রাজনৈতিক সম্পর্কের বিচারে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, কারণ ভাগ্যক্রমে আমি ১৯৭৯ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছিলাম; কিন্তু সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য আমাকে এখন সেই মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়েছে।

"তবে আমার এখনো তিন ছেলে রয়েছে, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে। তারা সবাই আমেরিকান নাগরিক এবং তারা সবসময় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতের ওপর থাকে।

"তাই আমি আশা করি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং এটিই হবে বন্ধুত্বের আসল পরীক্ষা।”

ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বিনিয়োগকারীরা যাতে লাইসেন্স ও অনুমতি পেতে ঝামেলায় না পড়েন, সে জন্য 'ওয়ান-স্টপ সার্ভিস' বা 'ওয়ান উইন্ডো' চালু করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। কোনো মার্কিন কোম্পানি সমস্যায় পড়লে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, "প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার স্পষ্ট: মার্কিন কোম্পানির জন্য সুযোগ বাড়ানো, মার্কিন কর্মীদের সমর্থন দেওয়া এবং মার্কিন রপ্তানি বৃদ্ধি।

"বাণিজ্য তখনই সবচেয়ে ভালো কাজ করে, যখন তা ন্যায়সংগত, পারস্পরিক এবং বাস্তব ফল দেয়।"

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ