আগামী ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর একটি সম্ভাবনার কথা বলা হলেও সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল সেন্ট মার্টিন। কিন্তু দ্বীপে যাওয়ার প্রধান বাহন পর্যটকবাহী জাহাজের চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় এখনো প্রশ্ন- এখানে পর্যটন শুরু কবে?
পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় এখন জাহাজ মালিকরা। সেইসঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনলাইন ট্রাভেল পাস ও টিকিটিং ব্যবস্থার প্রক্রিয়া।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার পরও পর্যটকরা সেখানে যেতে পারবেন কবে?
সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জাহাজ মালিক এবং পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর একটি সম্ভাবনার কথা বলা হলেও সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো শিপিং কোম্পানি সব ছাড়পত্র নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেনি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী বুধবার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। এরপর জেলা প্রশাসক সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি।
“ওই বৈঠকের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে,” বলেন সায়েম।
তিন জাহাজের অনুমোদন, অপেক্ষা আরও পাঁচটির
সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তিনটি জাহাজ বিআইডব্লিউটিএ থেকে অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটি-এর চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপ-পরিচালক নয়ন শীলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছে এখন পাঁচটি জাহাজের আবেদন রয়েছে।
তবে আবেদন করলেও কয়েকটি জাহাজের কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, “কিছু সরকারি কাজ বাকি আছে বা কিছু জাহাজে সেফটি-সিকিউরিটির বিষয় আছে। ওগুলো নিশ্চিত হলে অনুমোদন হয়ে যাবে।”
জাহাজের সংখ্যা বাড়লে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাটের সক্ষমতাও নতুন করে বিবেচনায় আসছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, কতগুলো জাহাজ একসঙ্গে চলাচল করতে পারবে, তা নির্ভর করবে জাহাজগুলোর আকার ও ধারণক্ষমতার ওপর।
সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলকারী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তার ভাষ্য, একটি দপ্তরের অনুমোদন নিতে গিয়ে আরেকটি দপ্তরের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
“যার যে যেটা ব্যথা, সেটা নিয়েই দৌড়ায়। মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানগুলো তো শুধু এটা নিয়ে বসে নেই,” বলেন তিনি।
জাহাজ চলাচলের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেরির জন্য সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেও দায়ী করেন তিনি।
তার মতে, “একটা মিটিং, আরেকটা মিটিং, এই মন্ত্রণালয়, ওই চেয়ার, এই হলো অবস্থা।”
বৃহস্পতি কিংবা শুক্রবারের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা করলেও সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে বাকি অনুমোদনের ওপর।
সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে এবার অনলাইন নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম বলেছেন, অনুমোদিত জাহাজগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী টিকিট বরাদ্দ করা হবে। নির্ধারিত এজেন্টদের ওয়েবসাইট ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে টিকিট কেনার পর পর্যটকরা ট্রাভেল পাস পান।
তিনি বলেন, টিকিটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।
তবে জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, জাহাজের বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন এবং ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারের সঙ্গে টিকিটিং ব্যবস্থা সমন্বয়ের প্রক্রিয়াও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আজ থেকে পর্যটক নিবন্ধনের জন্য ওয়েবসাইট খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, তা খোলা হয়নি।
এমভি টেকনাফের ব্যবস্থাপক আক্তার নূর বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ, ডিজি শিপিং, লোকাল ডিসি এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পারমিশন ফাঁদে আটকে গেছি।”
তার ভাষ্য, অনুমোদন পাওয়ার পরও টিকিটিং ব্যবস্থা ও ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে।