সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। একাধিক সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় আজ রোববার কক্সবাজার থেকে দ্বীপটির উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমতিপত্র পাওয়া গেলে আগামী বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র পাওয়ার পরই জেলা প্রশাসন জাহাজ চলাচলে চূড়ান্ত অনুমতি দেবে।’
তিনি আরও জানান, অন্যান্য সংস্থার ছাড়পত্র পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেনি।
সায়েম বলেন, ‘কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বুধবার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিদর্শনে যাবেন।’
ওই বৈঠকের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি।
সায়েমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছ থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি জাহাজ অনুমোদন পেয়েছে।
তবে বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম বিভাগ ও কক্সবাজার নদীবন্দরের উপপরিচালক নয়ন শীল জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি চেয়ে মোট পাঁচটি জাহাজ আবেদন করেছে।
জাহাজগুলো পরিদর্শন করে অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আগামীকাল সোমবার তিনি কক্সবাজার সফর করবেন বলে জানান।
গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। তবে প্রাথমিক প্রজ্ঞাপনে কয়েকটি বিধান অস্পষ্ট থাকায় ২৭ অক্টোবর তা সংশোধন করে আবারও জারি করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরিনা রহমানের সই করা ওই সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে এবং সেখানে রাতযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। অনুমোদিত জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত চলাচল করবে।
টিকিট বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক (বিপণন ও ব্র্যান্ডিং) মহিবুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘টিকিট বিক্রি হবে নির্ধারিত এজেন্টদের মাধ্যমে এবং অনুমোদিত প্রতিটি জাহাজের যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
টিকিটিং এজেন্টদের ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, টিকিট কেনার পরপরই ভ্রমণ পাস পেয়ে যাবেন যাত্রীরা।
বোর্ডের টিকিটিং ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান মহিবুল।
সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী জাহাজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘জাহাজ চলাচল শুরুর জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন।’
কিন্তু এখনো অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এ কারণে আজ থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার দ্বীপে পর্যটক চলাচলের অনুমতি দিলেও শিপিং কোম্পানিগুলো এই মুহূর্তে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালাতে খুব একটা আগ্রহী নয়। মৌসুমের এই সময়ে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘১৫ নভেম্বরের পর পর্যটন মৌসুম পুরোপুরি জমে উঠবে।’ তার আগে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেলেও সেই সংখ্যা খুব বেশি নয় বলে জানান তিনি।
তার মতে, স্কুলগুলোতে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্বীপটিতে পর্যটন মৌসুম জমে উঠতে পারে।