1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাবুগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসককে ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা মীর সাব্বিরের গল্প ও পরিচালনায় ‘খুব চেনা গল্প’ নারী ক্রিকেটে ৮ বিভাগে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত, দায়িত্ব পাচ্ছেন যারা একসঙ্গে ২ পেশা: সরাইল থানার ওসিকে আইনজীবী সমিতির শোকজ চাঁদপুরে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৬৪৬ জেলে আটক, ১৮৩ জনের কারাদণ্ড শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্ব পেলেন শিবা শানু, আলোচনা করে ছাড়তে চান শিল্পী সমিতির পদ লাঞ্চের আগে নাঈমের আঘাত, ৫৯ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ | Boishakhi Online অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন জশ ইংলিস ‘স্যার হ্যারি কেইন’ শুনতে অদ্ভুত লাগবে কেইনের ব্রাজিল ফুটবল দলে পাঁচ নতুন মুখ ডাকলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি

ডাক্তাররা যে শিক্ষা পেলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৬৫ Time View

বাংলাদেশে এসে নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং সেখানে তিনি যে বক্তব্য দেন, তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

১৯৯১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এই চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হয়ে এসেছিলেন তিনি। এরপর এমবিবিএস পাশ করে জেনারেল সার্জারি নিয়ে লোটে শেরিং এফসিপিএস করেছিলেন ঢাকাতেই।

ময়মনসিংহ মেডিকেলের পাশাপাশি কিছুদিন হাতে কলমে কাজ করেছেন ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজেও।

এরপর ২০০২ সালে দেশে ফিরে কয়েক বছর চাকুরীর পর রাজনীতিতে আসেন বন্ধু টান্ডি দর্জির প্রতিষ্ঠিত দলে যোগ দেয়ার মাধ্যমে। মি. দর্জি বর্তমানে ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তবে তিনি লোটে শেরিংয়ের মতো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকেই এমবিবিএস করেছেন।

আর দু’জন কলেজ ছাত্রাবাসের একই কক্ষে থাকতেন।

২০১৩ সালের নির্বাচনে তাদের দল হেরে গেলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশটির ক্ষমতায় যায় তাদের দল ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন লোটে শেরিং।

ডাক্তারদের যে পরামর্শ দিলেন লোটে শেরিং

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গিয়ে নিজের সহপাঠী, ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি, যার অধিকাংশই ছিলো বাংলায়।

শুরুতেই তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রস্তুতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

“শিক্ষক কাল যা পড়াবে তা আমি আগের রাতেই একবার দেখে নিতাম। পরদিন ক্লাসে গেলে স্যার ডেমো দেবে। এবং এর পরেই বন্ধুদের নিয়ে আলোচনা করতাম। ফলে বিষয়টি দু’তিনবার পড়া হয়ে যেতো”।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, এ থেকে শিক্ষাটা হলো: আমরা যদি শিখতে চাই সেটা পড়িয়ে নয়, আলোচনা করতে হবে। শেখার সেরা উপায় হলো আলোচনা করা।

নিজের অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, চতুর্থ বর্ষে থাকার সময় তাঁর পেটে ব্যথা ও অনেক বমি হচ্ছিলো। পরে হাসপাতালের আউটডোরে গিয়েও কাজ হয়নি এবং এক পর্যায়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিলো। কিন্তু তাতেও লাভ হচ্ছিলো না।

“দিন দিনে অবস্থা খারাপ হচ্ছিলো। একদিন বিকেলে একজন এলেন। আমাকে দেখে বললেন, ‘আরে এ ছেলেটাকে এভাবে রাখার কোন মানে হলো! এটাতো অ্যাপেন্ডিসাইটিস। আমাদের বললেই হতো।’ এরপর আমাকে তিনি বললেন ‘প্লিজ ডোন্ট অরি। আমি অপারেশন করবো। কোনো সমস্যা হবেনা। তোমার বাবা-মা দুরে। রাতে অপারেশন হলো এবং দু’সপ্তাহ পর সব ঠিক হলো”।

তিনি বলেন নিজের এ অভিজ্ঞতা থেকে যা তাঁর মাথায় এলো, তা হলো রোগী দেখতে হলে ভালো করেই দেখতে হবে।

“হুট করে প্রেসক্রিপশন দিলে ডায়াগনোসিস মিস হতে পারে এবং আমরা আমাদের কাজ হালকা ভাবে নিলে আরেকজনের জীবনের ক্ষতি হতে পারে। রোগীর সাথে সকাল-সন্ধ্যা, রাত-দিন ডিল করি। আমরা মানিয়ে নিই, কারণ এটা আমাদের কাজ”।

পুরো বক্তৃতায় নানা উদাহরণ তুলে ধরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী চিকি’কদের উদ্দেশ্যে আরও যেসব পরামর্শ দেন তাহলো:

১. সার্জন হওয়া বা না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালো সার্জন হওয়া।

২. আর ভালো সার্জন হতে হলে প্রথমে ভালো মানুষ হতে হবে।

৩. আমাদের সবার মতামত দেয়ার অধিকার আছে। কোন বক্তব্য ভুল বা সঠিক বলে চুড়ান্ত রায় দেয়ার কিছু নেই, যেকোন বিষয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে।

৪. আমরা রোগীর সাথে সব সময় থাকি, কিন্তু রোগীরা সব সময় আমাদের সাথে থাকে না। হয়তো একজন রোগী একবারই আসেন। সেজন্য প্রত্যেক রোগীর প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।

৫. আমরা শুধু মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে কাজ করি। এটা মনে রাখতে পারলে তা হবে সেরা অর্জন।

৬. শিক্ষকেরা সবসময়ই শিক্ষার্থীদের জন্য আছেন। শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষকদের জানতে ও বুঝতে হবে।

৭. উচ্চাভিলাষী হওয়ার দরকার নেই।

৮. নিজের সেরাটা দিন, বাকীটা আল্লাহই আপনাকে দেবেন।

লোটে শেরিং বলেন, ভুটানের চারটি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো যারা ‘মোটামুটি সমমানের ভালো অথবা খারাপ’।

“কিন্তু আমরা (নির্বাচনে) জিতেছি শুধুমাত্র আমাদের হেলথ ম্যানিফেস্টোর জন্য”।

– বিবিসি বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ