1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

গ্রামবাসীর চাঁদা তুলে খেলার মাঠ ক্রয়, পাশে দাঁড়ালেন ক্রীড়ামন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৭ Time View

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বাবুপুরে শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠের সংকট দূর করতে গ্রামবাসীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগে যুক্ত হলো সরকার। নিজেদের চাঁদায় ৬০ শতাংশ জমি কিনে মাঠ তৈরি করেছেন গ্রামবাসী। এবার মাঠের পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কিনে তাদের উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে ৬০ শতাংশ জমি কিনে স্থায়ী খেলার মাঠ তৈরি করেছেন। গ্রামবাসীর এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের।

গ্রামবাসীর এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিনে তাদের উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস বাবুপুর গ্রামে। সাত শতাধিক পরিবারের এই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে সাময়িকভাবে খেলার সুযোগ মিললেও চাষাবাদ শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যেত।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে মাঠের জন্য জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় গ্রামের বিত্তবান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। কেউ ২০০, কেউ ৫০০, ১ হাজার, আবার কেউ ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেন।

এ উদ্যোগে জমির মালিক ইকবাল হোসেন সুজন এক শতাংশ জমি দান করেন। বাকি ৫৯ শতাংশ জমি কিনতে ব্যয় হয় ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি গ্রামবাসীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় নতুন খেলার মাঠ।

গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গ্রামবাসীর উদ্যোগের বিস্তারিত জেনে তিনি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিমন্ত্রী জানতে পারেন, গ্রামবাসীর কেনা মাঠের পাশেই আরও ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ওই জমিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিনে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক ও স্বউদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’

এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মান জানাতে আগামীকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সরকারের সহযোগিতায় বাবুপুরে গড়ে উঠতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরের খেলার মাঠ। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে উন্নয়নের এমন উদ্যোগ শুধু একটি গ্রামের শিশু-কিশোরদের জন্যই নয়, সারা দেশের জন্যও হতে পারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ