পৃথিবীর ইতিহাসে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত কোনো দল বা ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি। তিনি বলেন, যারা চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদেরও আর এ দেশের রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পরিণতি হবে কম্বোডিয়ার পল পট, জার্মানির হিটলার কিংবা ইতালির মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট দলের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রোববার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা জেলা শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী।নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ ‘জেন-জি’র তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একে অপরের পরিপূরক। একাত্তরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে জাতি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে সেই স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছিল।বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে ছাত্রদলের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১ কোটি তরুণ-যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমরা কেবল সনাতনী চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না। বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ ডিজাইনের বিশাল বাজার রয়েছে। অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা চিপ ডিজাইনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তিরা এখন এক হয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছে উল্লেখ করে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, পোশাক কারখানায় বিশৃঙ্খলা, চোরাগোপ্তা বোমা হামলা কিংবা সমাজে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো প্রকার উদাসীনতা দেখালে জনগণ তাদেরও ষড়যন্ত্রের অংশীদার মনে করবে।আলোচনা সভায় খুলনা জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।