1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় পলাতক ট্রাকচালক গ্রেপ্তার সৌদি আরবে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ আসছে কাল দেশের ৪৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা প্রকাশনায় শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে সিনেমা পরিচালনা করলে রাজের পরামর্শ নেব: দেব শুরু হলো তৃতীয় দিনের খেলা, লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া সম্পত্তির দাম গোপন ঠেকাতে কী পরিকল্পনা? ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ‘অনিয়মের’ অভিযোগ, শনিবার বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের লাঞ্চের আগে নাঈমের স্বস্তি, তবু এগোচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ, জানা যাবে যেভাবে ঢাকা শহরে চলতে পারবে না লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা প্রকাশ

ইলিশ কমেডি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৯ Time View

নাটক জমে উঠেছে। বহুদিন ধরেই ইলিশ নিয়ে নাট্যাভিনয় চলছে। দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পায় না আর সেই ইলিশ কিনা রপ্তানি হয়ে যাচ্ছে ভারতে! এই নিয়ে একসময় অভিযোগের অন্ত ছিল না। ভারতবিদ্বেষের একটা সহজ সমীকরণ মেলানো হয়েছিল এই ইলিশ রপ্তানিকে কেন্দ্র করে। যাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারকে দুষছিলেন ভারতের কাছে ইলিশ বিক্রি করার কারণে, যাঁরা নানাভাবে অভিযোগ করছিলেন দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে ভারতের মানুষকে ইলিশ খাওয়ানো নিয়ে। সেই অভিযোগকারীরাই কিনা ক্ষমতায় আসার পর ভারতের কাছে ইলিশ বিক্রি করেছিল! পাঠক নিশ্চয়ই ভুলে যাননি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ইলিশ বিতর্ক কতটা হাস্যরসাত্মক হয়ে উঠেছিল, যা একসময় পৃথিবীর সেরা কমেডিগুলোকেও হার মানিয়েছিল।

স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, সে সময় বিভিন্ন উপদেষ্টা বিভিন্নভাবে ইলিশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন ইলিশ খেতে পারেন, সেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, আমাদের দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারবে না আর ইলিশ রপ্তানি হবে, এটা হতে পারে না। কিন্তু কিছুদিন পর যখন ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, তখন ফরিদা আখতার ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর মন্ত্রণালয় ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করতে চাইলেও রপ্তানির চূড়ান্ত ক্ষমতা তাঁর মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতের বিশেষ অনুরোধের ভিত্তিতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, তিনি অনুরোধ করতে পারেন, কিন্তু রপ্তানি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা তাঁর নেই। ক্ষমতা ছাড়াই তাহলে নিধিরাম সরদারের মতো পপুলার বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি!

অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুক্তি দেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন করে; রপ্তানি হবে মাত্র ৩ হাজার টন। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের ১ শতাংশের কম। তাঁর মতে, এত অল্প পরিমাণ রপ্তানিতে দেশের বাজারে বড় প্রভাব পড়ার কথা নয়। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ইলিশ উপহার হিসেবে যাচ্ছে না, রপ্তানি হচ্ছে।

ঘুরেফিরে যেটা দাঁড়াচ্ছে, সেটা হলো, ভারত-বিরোধিতার সুযোগ নিয়ে ইলিশ মাছকে বেশ রাজনীতির একটি উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কোন দল কখন এই রাজনীতি করছে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটে এই রাজনীতিতে।

যা হোক, যে ইলিশ ভারতে রপ্তানি নিয়ে এত হইচই, সেই ইলিশ কিনা এখন ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে! খুবই কম মূল্যে সেই ইলিশ কিনে এনে বরিশালের ইলিশ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। আবার কী কাণ্ড, ভারতের ইলিশ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ কেনার জন্য আবেদন করে রেখেছেন। করবেন না কেন? ভারতের যে ইলিশগুলো আনা হয়েছে, তা স্বাদহীন!

নাটক জমে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু দেশের মানুষ ন্যায্য দামে ভালো ইলিশ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই বঞ্চনা কেটে যাবে—সে ভরসা কোথায়?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ