আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের বিল ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।
বৃহস্পতিবার আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের আমদানি বিল বাবদ ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার।
আর গ্রস বা মোট হিসাবে রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
আগের দিন বুধবার গত সপ্তাহের বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস হিসাবে ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এদিন আকুর ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও আকুর দেনা শোধের পর রিজার্ভ খানিকটা কমেছে।
“প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে রিজার্ভ বেড়ে আরেক অবস্থানে পৌঁছবে।”
গত ৬ সেপ্টেম্বর জুলাই-অগাস্ট মেয়াদের ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে ৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে।
গত কয়েক মাস ধরেই রিজার্ভ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা এবং ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তা ঋণের ১০০ কোটি ডলার যোগ হওয়ায় গত ১৪ জুন বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩১ দশমিক শূন্য সাত বিলিয়ন ডলারে ওঠে।
গ্রস হিসাবে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
এর পর ২৯ জুন বিশ্ব ব্যাংকের বাজেট সহায়তা ঋণের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার যোগ হওয়ায় বিপিএম-৬ হিসাবে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে ওই দিন রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।
রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন ২ জুলাই বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩৩ দশমিক শূন্য এক বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে ওই দিন রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয় তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।
আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৮ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
সে হিসাবে বর্তমানের ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।
এক দশক আগে রিজার্ভের বাড়-বাড়ন্ত নিয়ে মধুর সমস্যায় ছিল বাংলাদেশ। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই অর্থ অলস বসিয়ে না রেখে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ছিল চিন্তার বিষয়।
কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায়। তাতে রিজার্ভ কমতে থাকায় দেখা দেয় উদ্বেগ।
রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফ থেকে ঋণ নেয়। তাদের শর্ত মেনে ২০২৩ সাল থেকে রিজার্ভের তথ্য গ্রস হিসাবের পাশাপাশি আইএমএফ অনৃসৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিও প্রকাশ শুরু করে।
এখন বিপিএম-৬ ও গ্রস হিসাবের পাশাপাশি রিজার্ভের নিট বা প্রকৃত হিসাবও করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সেটি নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। মাঝে-মধ্যে প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ (তখন বিপিএম-৬ ও নিট হিসাবে প্রকাশ করা হতো না) ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।
সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমলেও রেমিটেন্স বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিটেন্স বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
মসনদে টান ওদের, দমবন্ধ কিন্তু আমাদেরই