রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন সদ্য প্রয়াত ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস। তার পারিবারিক সূত্র জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ব্রাজিল থেকে মিজারুল কায়েসের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। রোববার (১৯ মার্চ) বিমানযোগে এই কূটনীতিকের মরদেহ ঢাকা পৌঁছাতে পারে।
ব্রাসিলিয়া থেকে সরাসরি ঢাকার ফ্লাইট না থাকায় মধ্যপ্রাচ্য হয়ে মিজারুল কায়েসের মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। ১৭ মার্চ ব্রাসিলিয়া থেকে মরদেহ মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের উদ্দেশে ফ্লাইটে তোলা হবে। এরপর সেখান থেকে ঢাকায় আসবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিবের মরদেহ। ঢাকায় আনার পর তিন দফায় তার নামাজে জানাজা হবে।
মিজারুল কায়েসের শ্যালক মোকাররম হোসাইন পিন্টু জাগো নিউজকে জানান, প্রথমে তার মরদেহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে জাতীয় শহীদ মিনারে যাবে মিজারুল কায়েসের মরদেহ। সবশেষে গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পারিবারিকভাবে আপাতত এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবকিছু চূড়ান্ত হবে শুক্রবারের পর।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত ১১ মার্চ ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজারুল কায়েস। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।
২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাদার কূটনীতিক মিজারুল কায়েস জেনেভা, টোকিও এবং সিঙ্গাপুরেও বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।
এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, আনক্লস ও বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা মিজারুল কায়েস স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।