ভারতে উত্তরপ্রদেশের মিরাট শহরের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে গত চব্বিশ ঘণ্টায় প্রায় জনাপঞ্চাশেক লোক জখম হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
দাঙ্গার পর শহরে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যদিও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলেই প্রশাসনের দাবি। তবে গত বছর মুজফফরনগরে ভয়াবহ দাঙ্গার পর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে আরও একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রাজ্যে শেষ দফার ভোটের ঠিক আগে সরকারকে বিরাট অস্বস্তিতে ফেলেছে।
মিরাটে এই দাঙ্গার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে – শহরের তিরগারান এলাকায় একটি মসজিদের লাগোয়া একটি কুয়াকে কেন্দ্র করে।
শহরের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় উভয়েই এই কুয়াটি তাদের বলে দাবি করে থাকে, আর এই কারণেই বিতর্কিত জায়গাটি ঘিরে রেখে সেখানে নিয়মিত পুলিশ পাহারারও ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু বেশ কিছু দিন হল সেখানে কোনও পাহারা ছিল না – কারণ একমাস আগে মিরাটের ভোট মিটে যাওয়ার পর শেষ কয়েক দফার ভোটের জন্য শহরের বহু পুলিশকর্মীকেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রাজ্যের পূর্বপ্রান্তে।
আর শনিবার ওই প্রহরাবিহীন কুয়াতে একটি জলসত্র বসানো নিয়েই হিন্দু ও মুসলিমরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
মিরাটের ডিআইজি কে সত্যনারায়ণ বলছিলেন, ‘ওই জলসত্র বসানোকে ঘিরেই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি শুরু হয় – তারপর তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েকটি গাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘খবর পেয়েই শহরের বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান – তারপর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হন।’
তবে মিরাটের ইতিহাস বলে, শহরে একবার দাঙ্গা শুরু হলে খুব সহজে তা মেটে না। শনিবার দাঙ্গার সময়ও দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে। সংঘর্ষে জখম দুপক্ষেরই বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ফলে মিরাটে উত্তেজনা আছে পুরো মাত্রাতেই, পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করছেন তাদের গাড়ি ও মোটরবাইক জ্বালিয়ে দেয়া হলেও রাজ্যের পুলিশ তা আমলই দিচ্ছে না।
তারা দাঙ্গায় মারাত্মক আহত এক যুবকের ছবি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপেও পোস্ট করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর বহু সদস্যকেও মিরাটে মোতায়েন করা হয়েছে।
মিরাটের পুলিশ-প্রধান ওমকার সিং জানান, ‘আটশো পুলিশকর্মীর পাশাপাশি বারো কোম্পানি পিএসি, সিআরপি, র্যাফ, আরআরএফ ইত্যাদি বাহিনীর জওয়ানরাও শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে – সেটাই আমাদের অগ্রাধিকার ছিল।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আর এখন যে মামলা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী তদন্ত করা ও দোষীদের গ্রেফতারেই আমরা জোর দেব। দুর্ভাগ্যবশত ভোটের জন্য আমাদের বহু পুলিশকর্মীকে বাইরে পাঠাতে হয়েছিল, তাই ওই বিতর্কিত কুয়াতে আমরা এতদিন বাহিনী রাখতে পারিনি।’
মিরাটের এই দাঙ্গায় রবিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। রোববার নতুন করে কোনো দাঙ্গা না-ছড়ালেও আগামিকাল উত্তরপ্রদেশ তথা সারা দেশের শেষ দফার লোকসভা ভোটের আগে মিরাটের এই পরিস্থিতি রাজ্য ও কেন্দ্র – দুই সরকারকেই তটস্থ রেখেছে।
বিশেষ করে মিরাট থেকে মাত্র পঁয়তিরিশ মাইল দূরে মুজফফরনগরে দাঙ্গার স্মৃতি যেহেতু এখনও টাটকা, তাই নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্বে এসে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তা আবার বিড়ম্বনায় ফেলেছে! সূত্র: বিবিসি।