তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়।
সান্তিয়াগো পেনিয়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
অভিশংসনের মাধ্যমে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে সান্তিয়াগো পেনিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে উয়েনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সংকট তৈরি হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার পেনিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কয়েক মিনিট আগে নিজ দলের সদস্যসহ আইনপ্রণেতারা তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরানোর পক্ষে ভোট দেন।
সান্তিয়াগো পেনিয়া বৃহস্পতিবার নিজেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়। এর ফলে আজীবনের জন্য সেনেটের সদস্য থাকার সুযোগ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া দায়মুক্তি হারিয়েছেন তিনি।
অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানো সান্তিয়াগো পেনিয়ার বাড়ির সামনে পাহারা দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল পেনিয়ার হাতে। তবে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
বিবিসি লিখেছে, ডিজিটাল ব্যাংকটির পতনের পর প্যারাগুয়ের অর্ধেকের বেশি মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেওয়ার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রায় ৩০ লাখ আমানতকারী তাদের সঞ্চয় ও পেনশনের টাকা তুলতে পারছেন না। এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী আসুনসিওনে বিক্ষোভের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।
অভিশংসনের অভিযোগে বলা হয়েছে, পেনিয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি প্রক্রিয়ায় কারসাজি করেছেন, পেনশন তহবিলের অর্থ অন্য খাতে সরিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের পর কংগ্রেস ভবনের কাছে সড়কে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গনজালেস ভেস্টার জানিয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পেনিয়াকে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।
পেনিয়াকে অভিশংসনের প্রস্তাবের পক্ষে ৪৫ জন সেনেটরের মধ্যে ৪৪ জন ভোট দেন। একজন সেনেটর ভোটের সময় অনুপস্থিত ছিলেন।
ভোটাভুটির পর সেনেটের প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
পরে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন আলিয়ানা। তিনি বলেন, “আর্থিক খাতের এই ধসের কারণে যারা কঠিন সময় পার করছেন, তাদের পুরো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের পর কংগ্রেস ভবনের কাছে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। ছবি: রয়টার্স
সেনেটর রাফায়েল ফিলিজোলা বলেন, “আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারির মুখোমুখি আমরা। এটি রাষ্ট্র, সাধারণ মানুষ এবং দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভাবমূর্তির ওপর বড় আঘাত।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যাংকটির পতনের ঘটনায় এবার পেনিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
পেনিয়ার আইনজীবী রিকার্দো প্রেদা অভিযোগগুলোকে ‘বেপরোয়া’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, এসব অভিযোগ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সুযোগসন্ধানী’।
পেনিয়া বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তা ভঙ্গ করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।”
করের বিকল্প যখন রেমিটেন্স: জবাবদিহিহীন রাষ্ট্রের ‘সহজ এক্সিট’ তত্ত্ব
বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড?
মসনদে টান ওদের, দমবন্ধ কিন্তু আমাদেরই
ল্যাবে কি ঘুমিয়ে আছে পূর্ণ শিক্ষিত রোবট?