1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

অর্থের প্রভাব নয়, জনতার ঐক্যই বড় শক্তি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২০ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আবার প্রমাণ করেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণÑকোনো বিলিয়নিয়ার, বিত্তশালী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কিংবা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও নন। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয় এই নীতির এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। অব্যাহত ব্যক্তিগত আক্রমণ, ধর্মীয় ও বর্ণগত বিদ্বেষ, বিপুল অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক কূটকৌশল সত্ত্বেও আল-সাইয়েদ বহুল আলোচিত এই নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিজয়ের খবর প্রকাশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।এই বিজয় শুধু একজন ব্যক্তির নির্বাচনি সাফল্য নয়। এটি আমেরিকার গণতন্ত্রে অর্থের প্রভাব, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য এবং বিভাজনমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আল-সাইয়েদ রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং এমন একটি ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা, যেখানে বিত্তশালী দাতা ও শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো অসমভাবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে।একজন চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য নেতা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আল-সাইয়েদ নির্বাচনি প্রচারণায় একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। আমেরিকান পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সমস্যা সম্পর্কে তার গভীর উপলব্ধি এবং বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরার দক্ষতা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আলাদা করেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নির্বাচনি প্রচারণার মূল বিষয় হতে না দিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তার ওপর জোর দিয়েছেন : মানুষের পকেটে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া, রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।তিনি বারবার বলেছেন, আমেরিকা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড় একটি দেশÑকে কীভাবে প্রার্থনা করেন, কিংবা আদৌ প্রার্থনা করেন কি না, সেটি কোনো বিষয় নয়। তিনি আরো বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য অভিবাসীরা দায়ী নন; বরং প্রেসিডেন্টের ভুল নীতির কারণে সাধারণ আমেরিকানদের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠেছে।তার নির্বাচনি স্লোগানে সাধারণ ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসদাই কিনতে, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে, গাড়িতে জ্বালানি ভরতে কিংবা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হিমশিম না খায়। তার বক্তব্য ছিল, এগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি সমৃদ্ধ দেশের পক্ষে এসব পণ্য ও সেবা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব হওয়া উচিত।ইসরাইলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতাও আল-সাইয়েদ তার রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তার যুক্তি ছিল, গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলে যে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, তাতে সহায়তা না দিয়ে সরকারি অর্থ আমেরিকার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত। গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরাইলকে কোনো ধরনের অর্থায়ন তিনি সমর্থন করেন না। তার এ অবস্থান রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তিনি মনে করেন, জনগণের করের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করার অধিকার ভোটারদের রয়েছে।ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষনির্বাচনি প্রচারণার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে পরিচালিত আক্রমণের তীব্রতা। নীতিগত পার্থক্য নিয়ে আলোচনা না করে ট্রাম্প বারবার প্রার্থীর মুসলিম পরিচয়, নাম ও পারিবারিক পটভূমিকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছেন।ট্রাম্প তাকে ‘র‍্যাডিক্যাল জিহাদি’, ‘জিহাদি’ এবং ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আল-সাইয়েদকে ‘সন্ত্রাসীদের পক্ষের লোক’ বলেও অভিযুক্ত করেন এবং তাকে ‘যেখান থেকে এসেছেন, সেখানে ফিরে যেতে’ বলেন, যদিও আল-সাইয়েদের জন্ম মিশিগানেই। অন্য এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করেন এবং ঘোষণা করেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট। আমি তাকে যা খুশি তাই বলে ডাকতে পারি।’ট্রাম্প আরো ইঙ্গিত দেন, আল-সাইয়েদ সিনেটে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। তিনি বলেন, আল-সাইয়েদই হবেন একমাত্র সিনেটর, যাকে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর জবাবে আল-সাইয়েদ তীক্ষ্ণভাবে বলেন, ট্রাম্প যদি মিথ্যা শনাক্তকারী যন্ত্রের (লাই ডিটেক্টর) মধ্য দিয়ে যেতে রাজি হন, তাহলে তিনিও মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে প্রস্তুত।এসব বক্তব্য আমেরিকার নির্বাচনি রাজনীতিতে ইসলামবিদ্বেষ, বর্ণগত ছকবদ্ধ ধারণা এবং ধর্মীয় পক্ষপাতের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।করপোরেট অর্থ ও আর্থিক প্রভাবের বিরুদ্ধে নির্বাচনি লড়াইডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে (প্রাইমারি) আল-সাইয়েদের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি। আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক) তাদের সহযোগী রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন এবং তার বিরোধিতায় প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে। কোনো একটি নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওই সংগঠনের এটিই ছিল সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। এত বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাবের পরও আল-সাইয়েদ ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন লাভ করেন।অর্থনৈতিক বৈষম্যের মাত্রা ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। বিশাল আর্থিক অসমতা অতিক্রম করে তার বিজয় প্রমাণ করে, তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সংগঠিত অংশগ্রহণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো বিষয়ভিত্তিক প্রচারণার যথেষ্ট শক্তি রয়েছে।মুসলিম ও সংখ্যালঘু ভোটারদের বৃহত্তর বার্তাআল-সাইয়েদের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বৃহত্তর অগ্রগতিরই একটি অংশ। মুসলিম আমেরিকানরা ক্রমবর্ধমানভাবে নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন, সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কে তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।কংগ্রেসের দুই নারী সদস্য ইলহান ওমর (মিনেসোটা) এবং রাশিদা তালাইব (মিশিগান)ও তীব্র বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তারা আগের তুলনায় বেশি ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।ওয়াশিংটনের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব মিশিগানের বাইরেও বিস্তৃত। নির্বাচনি ফল অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।বিভক্ত সরকার—অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে—আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয়, পররাষ্ট্রনীতি এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কিংবা সাংবিধানিক বিরোধিতার মুখোমুখি হয়, সেখানে কংগ্রেসের তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ৩ নভেম্বর ট্রাম্প বলেছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিদ্যমান সহায়তা চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে এই সহায়তা বন্ধ করার বাস্তব ও আইনগত প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। গাজায় যুদ্ধ এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান জনমত ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের চূড়ান্ত নির্ধারকআবদুল আল-সাইয়েদের বিজয় বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। অর্থ দিয়ে বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ কেনা সম্ভব; কিন্তু অর্থ দিয়ে জনগণের আস্থা নিশ্চিতভাবে অর্জন করা যায় না। প্রেসিডেন্টের সমর্থন, রাজনৈতিক ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণও নির্বাচনে বিজয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।মিশিগানের জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টার চেয়ে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল-সাইয়েদের সাফল্য আরো দেখিয়েছে, একটি সুস্পষ্ট কর্মসূচি, ধারাবাহিক অবস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা গড়ে তোলার মাধ্যমে একজন প্রার্থী শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী মহলকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।তবে তার বিজয়ের অর্থ এই নয় যে আমেরিকার গণতন্ত্রের সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। বিত্তশালী দাতাদের প্রভাব, রাজনৈতিক লবিং, বর্ণবৈষম্য এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। একটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার অর্থ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার নিশ্চয়তাও নয়। এখন আল-সাইয়েদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তার অঙ্গীকারগুলোকে আইন প্রণয়ন এবং মানুষের জীবনে বাস্তব উন্নয়নে রূপান্তরিত করা।তবু তার এই অর্জন ঐতিহাসিক। এটি প্রমাণ করে, অভিন্ন স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের সম্মিলিত শক্তি বিপুল রাজনৈতিক ও আর্থিক বাধাও অতিক্রম করতে পারে।পরিশেষে, গণতন্ত্র জনগণেরই সম্পদ। কোনো প্রেসিডেন্ট, বিলিয়নিয়ার, লবিং গ্রুপ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান চিরকাল জনগণের সচেতন ও সম্মিলিত কণ্ঠস্বরের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে না।লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ