1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

চালকের আসনে থেকেই তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪২ Time View

দিনের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত আধিপত্য করেছে বাংলাদেশ। সকালে বোলিং আগ্রাসন দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ আর এবাদত হোসেন। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানদের শাসন করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর মুশফিকুর রহিম। এতে বড় রানের লিডের পথেই ছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েছিলেন মুশফিক ও শান্ত দুজনই।

তবে শেষ বিকেলটা বাংলাদেশের কিছুটা আক্ষেপের হয়েছে। দুই থিতু হওয়া ব্যাটারসহ হারিয়েছে তিন উইকেট। সেঞ্চুরির মিস করেছেন মুশফিক-শান্ত দুজনই। তবে এখনো ম্যাচে চালকের আসনেই আসে বাংলাদেশ। আগামীকাল লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজ একটু দায়িত্ব নিলেই জয়ের পথ মজবুত হবে টাইগারদের।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধবাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

এর আগে আফগানিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রান। ১৩ বলে ৫ রান করে লিটন দাস আর ১ বল থেকে শূন্য রানে অপরাজিত আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তৃতীয় সেশনে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৬৮ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৩ রানের। ১৮২ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে সঙ্গ দিতে আসা লিটন দাস অপরাজিত ৫ বলে ৩ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় পঞ্চাশ রান পার হতেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় সফরকারীররা। ২২ বলে ১৩ রান করে সাদমান ইসলাম আর ১৪ বলে ৭ রান করে ফিরে যান মুমিনুল হক। ভালো শুরু পাওয়া ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৮ বলে ৩১ রান করে ফিরে যান।

দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দায়িত্ব নেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এই দুই ব্যাটারা। দায়িত্বশীল ইনিংসে স্বাগতিক বোলারদের সুযোগ না দিয়ে এগিয়ে যান তারা।

দিনের দ্বিতীয় সেশন আর তৃতীয় সেশনের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়ে দেন তারা। ৩০৩ বল খেলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে তুলে নেন ১৫৯ রান। কিন্তু হঠাৎই যেন ছোটখাটো ব্যাটিং ধস দেখল বাংলাদেশ। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন মুশফিক। কিন্তু হঠাৎ কি যেন হলো তার। খোঁচা মেরে ফিরলেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে ১৪৮ বল থেকে ৮১ রান করেন তিনি।

মুশফিক ফেরার পর অপেক্ষা ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির। কিন্তু তিনিও পারলেন সেটিকে পূর্ণতা দিতে। ইনিংসের ৭১তম ওভারে আফগান স্পিনার কায়েস আহমেদের দারুণ ডেলিভারিতে পরাস্ত হন শান্ত। অফস্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করা টার্ন করে স্ট্যাম্পে আঘাত করে। সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ফেরেন শান্ত। ১৯১ বল থেকে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

এরপর লিটনকে সঙ্গ দিতে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমেছিলেন হাসান মাহমুদ। তবে বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি তিনি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার এক বল আগেই জিয়া-উর-রহমানের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে আউট হন তিনি। ৬ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি হাসান।

চতুর্থ দিন সকালে দায়িত্বটা থাকবে এখন লিটন আর মিরাজের ওপর। দায়িত্ব নিয়ে লিড আরও বাড়িয়ে নিয়ে জয়ের ভিত্তিটা আরও মজবুত করার।

এর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ২১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনটা তাদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। দিনের শুরুতেই টাইগার পেসারদের তোপের মুখে পড়েন আফগান ব্যাটাররা। সেটি সামাল দিয়ে আর বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। তৃতীয় দিন মাত্র ২৯ রান তুলেই শেষ হয়েছে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।

তৃতীয় দিন দ্বিতীয় নতুন বল পেয়ে দুই পাশ থেকেই পেস আক্রমণ করছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সেটার সুফল পেতে খুব একটা দেরি হয়নি। তৃতীয় দিনের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন এবাদত হোসেন। আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইকরাম আলীখিলকে ফিরিয়ে ভাঙেন ২১১ বলে ৮০ রানের জুটি। যেই জুটি গতকাল বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছিল। ইকরাম ফেরেন ১০৩ বলে ৩২ রান করে।

এর পরের গল্পটা হাসান মাহমুদের। আগের দিন নিজের নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি তিনি। মোটে একটি উইকেট নিতে পেরেছিলেন। তবে হাসান যেন সব তোলা রেখেছিলেন তৃতীয় দিন সকালের জন্য। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে তুলে নিয়েছেন ফাইফারও।

দিনের চতুর্থ আর ইনিংসের ৪৩তম ওভারে হাসান বল করতে আসলেন, বল করলেন আর জয় করলেন– গল্পটা এভাবেও বলা যায়। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম টানা তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিলেন হাসান। গড়লেন ইতিহাসও। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক এখন হাসানের নামের পাশে। রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ আর জিয়া-উর-রহমানকে।

শুধু হ্যাটট্রিকই আফগানদের পরের টানা চারটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে পুড়েন হাসান। ইনিংসের ৮৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ফেরা ইয়ামিন আহমাদজাইকে। তাকেও রানের খাতা খুলতে দেননি। আফগান এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ফাইফার তুলে নেন হাসান। টেস্টে এটি তার চতুর্থ ফাইফার।

হাসানের আগ্রাসন শেষে আফগানিস্তানের বাকি উইকেটটি তুলে এবাদত। শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরান মোহাম্মদ সালিমকে। বাকিদের যাওয়া-আসার ভীড়েও একপ্রান্ত আগলে রেখে স্বাগতিকদের হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিও। শেস পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ২১৬ বল থেকে ১০৫ রানে।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬/১০ (তামিম ৮৩, সাদমান ৬৭, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, হাসান ২, তাইজুল ৯, এবাদত ০, নাঈম ৩৫*; আহমাদজাই ২০.৩-৩-৭৯-৩, সালিম ২৩-২-৮২-৪, হাশমতুল্লাহ ৩-০-২৪-০, ইসমাত ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া-উর-রহমান ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ৮৯.১ ওভারে ২৪০/১০ (অটল ১৭, আব্দুল মালিক ৬২, শাহিদুল্লাহ ২০, হাশমতুল্লাহ ০, ইকরাম ৩২, ইসমাত ০, কাইস ০, জিয়া-উর-রহমান ০, ইয়ামিন ০, সালিম ০, রহমত ১০৫* ; হাসান ২১-৫-৫৫-৫, এবাদত ১৫.১-৩-৫৬-৪, মিরাজ ২১-৭-৪১-১, তাইজুল ২১-৪-৪৪-০, নাঈম ১০-০-৩৭-০, মুমিনুল ১-০-৬-০

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ৭২ ওভারে ২২৩/৬ (সাদমান ১৩, মুমিনুল ৭, তামিম ৩১, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, হাসান ০, লিটন ৫*, মিরাজ ০*; আহমাদজাই ১১-১-৪২-২, সালিম ১৩-৩-৩৯-১, ইসমাত ৩-০-৯-০, জিয়া-উর-রহমান ২৩-৩-৫৫-২, কায়েস ৭-০-৩৬-১, আব্দুল মালিক ৩-১-৯-০, হাশমতুল্লাহ ১২-০-৩২-০)

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ