অঙ্কের ৫ সংখ্যাটি যেন বার্সেলোনার পৈতৃক সম্পত্তি। প্রতিপক্ষ যারাই হোক না কেন তাদের জালে কমপক্ষে ৫ গোল না দিলে যেন শান্তি পায় না বার্সেলোনা।
বিশ্বাস না হলে এবারের মৌসুমে তাদের স্কোরলাইনে তাকান।
লা লিগায় এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলেছে বার্সেলোনা, যার ৪ টিতেই কমপক্ষে ৫ গোল দিয়েছে প্রতিপক্ষের জালে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটি ধরলে পঞ্চম। যার সর্বশেষটি গতকাল ঘরের মাঠে রেসিং সানটান্ডারকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে।
এবারের লিগে এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে সর্বোচ্চ ৭ গোলও দিয়েছে গতকাল। রেসিংকে ৭-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। হ্যাটট্রিক করেছেন রাফিনিয়া। একটি করে গোল পেয়েছেন জোয়াও কানসেলো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, লামিনে ইয়ামাল।
অন্যটি প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার অ্যাসিয়ার ভিল্লালিবেরের আত্মঘাতী। বিপরীতে রেসিংয়ের হয়ে গোল করেছেন ম্যাগুয়েত্তি গুয়ে ও ইয়াসির জাবিরি।
ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচ শুরু হতেই বেরসিক বৃষ্টি শুরু হয়। আকাশের মতো জমিয়ে খেলা শুরু করল বার্সেলোনাও। তাতে শুরু হয় গোলোৎসব।
একদম শুরু থেকেই রেসিংকে পাগল বানিয়ে ছাড়লেন রাফিনিয়া-লামিনেরা। তবে গোলোৎসবের শুরুটা হয় কানসেলোর দর্শনীয় এক শটে।
ম্যাচের ৮ মিনিটে বক্সের বাইরে প্রায় ২০ গজ দূরত্ব থেকে বুলেট গতির শট নেন কানসেলো। পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের বাঁকানো শট সেভ করার কোনো উপায়ই ছিল না রেসিংয়ের গোলরক্ষকের।
দ্বিতীয় গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে ২৫ মিনিটে নিজেই স্পটকিক থেকে গোলটি করেন রাফিনিয়া। বিপরীতে ৩০ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন গুয়ে। দারুণ এক দলীয় নৈপুণ্যে গোলটি করেন রেসিংয়ের অধিনায়ক।
তবে ৬ মিনিট পরেই আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে। যদিও গোলটি পুরোপুরি কৃতিত্ব কানসেলোর। বক্সের বাইরে থেকে ৩৬ মিনিটে আরেকটি তীরের মতো শট নেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার। জালে জড়ানোর আগে তার শট প্রতিপক্ষের ভিল্লালিবেরের গায়ে লাগায় গোলটি আত্মঘাতী হয়।
বিরতিতে যাওয়ার আগে প্রতিপক্ষের জালে চতুর্থ গোল করেন রাফিনিয়া। ৪২ মিনিট বক্সের মধ্যে থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে। তবে ৫-১ ব্যবধান নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করতে পারত বার্সেলোনা। করিম আদেমেয়ি বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। এবার স্পটকিকটি নেন লামিনে। ঝাঁপিয়ে পড়ে লামিনের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক হুলেন আজিরেজাবালা।
বিরতির পর আরেকবার ব্যবধান কমায় রেসিং। গোলটি জাবিরির নামে লেখা থাকলেও বড় ভুল করে বসেন ভয়েচেক সেজনি। সতীর্থর কাছ থেকে পাওয়া বল রিসিভ করার পর জাবিরিকে ডজ দেওয়ার চেষ্টা করলে রেসিংয়ের বদলি ফরোয়ার্ড জালে পাঠিয়ে দেন।
ব্যবধান কমানোর ২ মিনিট পরেই হ্যাটট্রিকপূর্ণ করেন রাফিনিয়া। আবারও বক্সের মধ্যে আদেমেয়ি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিকপূর্ণ করেন রাফিনিয়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা এখন ১১।
অন্যদিকে বদলি নেমে গোল করেন জেসুসও। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা পান লামিনে। আদেমেয়ির অ্যাসিস্টে গোলটি করেন তিনি। পেনাল্টি মিসের আগে-পরে চেষ্টা করেও পাচ্ছিলেন না স্পেনের প্লে মেকার। তার গোলের পরেই শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারি।
৭-২ গোলের জয়ে লিগে অপরাজিত যাত্রা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ৬ ম্যাচের প্রতিটি জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেও তারা।