ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিধি বিস্তারের জন্য ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন ফান্ড’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আজ বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আপনারা চিন্তা করতে পারেন কীভাবে একটা ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন ফান্ড’ গড়ে তোলা যায়। সেখানে কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, কোম্পানি ফান্ড দিতে পারে। যদি ব্যক্তিখাত রাজি থাকে নিঃসন্দেহে সরকার এই ক্ষেত্রে রাজস্ব ব্যবস্থায় কি ধরনের পরিবর্তন আনা যায় সেগুলো দেখবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গবেষণা ও উদ্ভাবন ফান্ড রয়েছে। এটার মাধ্যমে আপনারা গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার এটা উল্লেখ করছেন। ফান্ড থেকে টাকা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের কাউন্সিল থাকতে পারে। যাতে করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওই ফান্ডগুলো বিতরণ করা যেতে পারে।
অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা থেকে সমৃদ্ধির পথে যেতে রূপরেখা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, সরকার ‘থ্রি-আর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে। এই কৌশলের প্রধান তিনটি ধাপ হলোÑরিকভারি (অর্থনীতির প্রাথমিক পুনরুদ্ধার), রিস্টোরেশন (স্থিতিশীলতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা) এবং রিকনস্ট্রাকশন (দ্রুততার সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন)।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, এলডিসি থেকে টেকসই উত্তরণ এবং পিছিয়ে পড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন; এই তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে একসঙ্গে সুসমন্বিত করে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।
বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র বা ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ওমান সরকার ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে যৌথ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভূ-অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল অক্ষুণ্ন রাখা যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় প্রথম শিল্পমেলার মাধ্যমে দেশে প্রথম উদ্যোক্তা শ্রেণির বিকাশ ঘটেছিল এবং তৈরি পোশাক খাতের ভিত তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভিত মজবুত করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণদের মেধাকে কাজে লাগানোর এখনই উপযুক্ত সময়।
গবেষণা ও প্রযুক্তির বিকাশকে কোনো ক্ষণিকের প্রদর্শনী বা ইভেন্টে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে ‘গ্যারেজ থেকে গ্যালাক্সি’ পর্যন্ত বিস্তৃত করে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ছোট পরিসরে বা ছোট টেবিলে শুরু হওয়া উদ্ভাবন থেকেই বিশ্বজুড়ে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটেছে। তাই কোনো উদ্ভাবক যেন তাদের ধারণাকে ছোট বা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে না করেন। উপস্থাপিত ও অনুপস্থাপিত প্রতিটি ধারণাই অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
তিনি জানান, মেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও ৫০টিকে চূড়ান্ত প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর মধ্য থেকে সেরা ১০টি উদ্ভাবনকে পুরস্কৃত করা হবে। শীর্ষ ৫০টি উদ্ভাবনের প্রত্যেকে সনদপত্র এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক স্বীকৃতি পাবেন। পাশাপাশি চমৎকার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।