জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯১ জনে।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
আজ রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৯১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৭৭ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন ৩০ জন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, তাড়াইলে ২৯ জন, করিমগঞ্জে ৪ জন, কুলিয়ারচরে ৫ জন, ভৈরবে ৬ জন, পাকুন্দিয়ায় ২ জন, মিঠামইনে ২ জন, নিকলীতে ২ জন, কটিয়াদীতে ১ জন, হোসেনপুরে ৬ জন ও ইটনায় ৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এর আগে শনিবারও জেলায় ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এক দিনের ব্যবধানে আবারও ৪৮ জন শনাক্ত হওয়ায় জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় মশাবাহিত এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে স্বস্তির বিষয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায়। সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পাত্র, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জ্বর হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা।