মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আলো ছড়িয়ে চলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি তিনি। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছে বৈভবকে।
আগামী এশিয়ান গেমসেও বৈভবকে নিয়ে একই চিত্র দেখা যেতে পারে। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতের এই দলের কোচ হিসেবে থাকবেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। সেখানে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকেই আপাতত ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে বৈভবকে নিয়ে গম্ভীরের বক্তব্য ছিল পরিষ্কার-প্রতিভা থাকলেও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তাকে।
গম্ভীর বলেন, ‘বৈভবের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই পরিষ্কার-তাকে তার সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা জানি তার কী ধরনের প্রতিভা আছে। আমরা জানি সে কী করতে পারে। কিন্তু কেউ যদি বছরের পর বছর দুর্দান্ত পারফর্ম করে থাকে, তাহলে যে মাত্র দলে এসেছে তার চেয়ে সে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকবে। যখনই বৈভব সুযোগ পাবে, তখন তাকে দীর্ঘ সময়ও দেওয়া হবে।’
ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে গম্ভীর আরও বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট এমনই। আমরা প্রতিযোগিতা চাই, আমরা ড্রেসিংরুমে এমন প্রতিভা চাই। কিন্তু কখনো কখনো ক্রিকেট এমনই হয়। সে ১৫ বছরের হোক কিংবা ৩০ বছরের, সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।’
বৈভবের জায়গা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসনও। ইংল্যান্ড সফরে টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর স্যামসনকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে রান করতে না পারায় তার জায়গায় অভিষেক হয় বৈভবের। পরের তিন ম্যাচে বৈভবও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি।
এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে স্যামসনকে বিশ্রাম দেওয়া হলে বৈভব ওপেন করেন অভিষেক শর্মার সঙ্গে। সেখানে ১৫১ রান করে সিরিজসেরা হন ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
তবে আফগানিস্তান সিরিজে স্যামসন ফিরে আসতেই আবারও বেঞ্চে চলে যান বৈভব। স্যামসনও সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তিন ম্যাচের সিরিজে দুটি অর্ধশতক করেছেন তিনি।
ইংল্যান্ড সফরে স্যামসনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন গম্ভীর।
তিনি বলেন, ‘স্যামসন দেখিয়েছে সে কী করতে পারে। প্রতিভা না থাকলে কেউ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টসেরা হতে পারে না। সে যথেষ্ট করেছে। ইংল্যান্ড সিরিজে তাকে বাদ দেওয়া সম্ভবত আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, বিশেষ করে তার আগের পারফরম্যান্স বিবেচনায়।’
গম্ভীরের মতে, কখনো কখনো খেলোয়াড়ের সাম্প্রতিক ফর্মের ওপরও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটাররা এক-দুটি সিরিজে ব্যর্থ হলেই খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যান না।
‘কখনো কখনো আপনাকে খেলোয়াড়দের ফর্মের দিকেও তাকাতে হয়। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি বিশ্বকাপের সময়কার কম্বিনেশনে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ তিন-চারটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই ওই খেলোয়াড়েরা খারাপ হয়ে যায় না। একটি দল যদি এক বিশ্বকাপ থেকে আরেক বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে একটি সিরিজের পর হঠাৎ করে সেই দল বা খেলোয়াড়েরা খারাপ হয়ে যায় না’-বলেন গম্ভীর।
ফলে জিম্বাবুয়েতে সিরিজসেরা হলেও বৈভবকে আপাতত অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে। বয়স মাত্র ১৫, কিন্তু জাতীয় দলের একাদশে জায়গা পেতে তাকেও এখন পারফরম্যান্স ও সুযোগের সেই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে।