নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পেছনে মূল ইন্ধনদাতা ফ্রান্স জানিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আফ্রিকার দেশ নাইজারের সামরিক সরকার। শুক্রবার দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সরকারি বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট রাজধানী নিয়ামেতে বিমানবন্দর এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস লক্ষ্য করে হামলা চালান বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা। ২০২৩ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আব্দুর রহমান তিয়ানির সরকারের জন্য এটি ছিল নতুন এক বড় চ্যালেঞ্জ। হামলায় সামরিক ঘাঁটিতে বিকট বিস্ফোরণ ও দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও, পরের দিনই রুশ প্যারামিলিটারি বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে নাইজারের সেনাবাহিনী।
শুক্রবার দেশটির মন্ত্রিসভা এক বৈঠকে বসে নিশ্চিত করে যে এই হামলার নেপথ্যে ছিল ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি বিশাল চক্রান্তকারী নেটওয়ার্ক।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই হামলার পেছনে ফ্রান্সের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল জড়ো করা হয়েছে। নাইজার সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।’
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে বেশ চাপের মুখে রয়েছে সেনাবাহিনী। আর এ নিয়ে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরেও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এর আগেও রাজধানীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার জন্য ফ্রান্স ও আশপাশের কয়েকটি দেশকে দায়ী করেছিলেন তিয়ানি।